বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

০৮ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:১১

বিশ্বনাথে প্রবাসী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট

সিলেটের বিশ্বনাথে নিকটাত্মীয় এক প্রবাসী বিএনপি নেতা অন্য বিএনপি নেতার ১ কোটি ২১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৮১ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা করায় মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত ও প্রতারণাকারী যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা হলেন আহমদ আলী (৪৮)। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথের সিঙ্গেরকাছ পশ্চিম গাঁওয়ের মৃত খোয়াজ আলীর ছেলে। আর মামলার বাদী একই গ্রামের বাসিন্দা আলহাজ্ব আবারক আলী। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও দৌলতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকার ‘ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম অর্গেনাইজড ক্রাইম বাংলাদেশ পুলিশের ‘সিআইডি’ কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান এ চার্জশিট দাখিল করেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৩ জুন প্রবাসী আহমদ আলীকে একমাত্র আসামি করে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমলি আদালতে ১ কোটি ২১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৮১ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন আলহাজ্ব আবারক আলী। আদালতে (বিশ্বনাথ সিআর মামলা নং ১৭৫/১৯ইং) মামলা দায়েরের পরদিন ২৪ জুন বিশ্বনাথ থানার তৎকালীন ওসি শামসুদ্দোহা আদালতের নির্দেশে থানায় মামালা রুজু করেন, (মামলা নং ১৮)।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় ২০০৯ সালে আহমদ আলীর পিতা মারা যাওয়ার পর সিঙ্গেরকাছ বাজারে আহমদ আলী তার মালিকানাধীন দুতলা বাসাসহ ২টি দোকান কোঠা ১ কোটি ৫০ লাখ টাকায় আবারক আলীর নিকট বিক্রি করতে চান। কিন্তু এর আগে আবারক আলীর কাছে টাকা ধার চান আহমদ আলী। এরই প্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের ৪ ডিসেম্বর নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাজী রাশিদ আলী ট্রেডার্সের পূবালী ব্যাংক সিঙ্গেরকাছ বাজার শাখার ২৭৫৯-৯০২০০০০-১২ নং একাউন্ট থেকে অভিযুক্ত আহমদ আলীর ২৭৫৯-১০১-১৬৪৮০ নাম্বার একাউন্টে ৮১৪২৮২০ নং চেকের মাধ্যমে আবারক আলী ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ধার দেন। ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি ২৪১৪৫২১ নং চেকে একই একইভাবে আরও ৫ লাখ টাকা ধার দেন আবারক। এতে আহমদ আলীর নিকট পাওনা দাঁড়ায় ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

অন্য দিকে বাসা ও দোকান কোঠা বিক্রির দুপক্ষের চুক্তি মতে আহমদ আলীর নামে পূবালী ব্যাংক সিঙ্গেরকাছ শাখা থেকে ৩৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩২৬ টাকার একটি পে-অর্ডার প্রদান করেন আবারক। আহমদ আলীর নেওয়া ব্র্যাক ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখা থেকে লোন বাবদ কিস্তি (প্রতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে তিনি ৫৫টি পেমেন্টের মাধ্যমে) ৭৭ লক্ষ ২৪ হাজার ২৫৫ টাকা জমা দেন। এই টাকাসহ সর্বমোট তিনি ব্যাংক মারফেতে আহমদ আলীকে ১ কোটি ২১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৮১ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত আহমদ আলী আবারক আলীর সঙ্গে প্রতারণা করেন।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা ‘সিআইডি’র এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ তদন্তের পর ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তিনি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন।

বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, মামলা দায়েরের প্রায় ১৬ মাসের মাথায় ওই মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত