১০ অক্টোবর, ২০২০ ১৯:১০
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের দুর্ভোগে পড়ছেন গ্রাহকরা। গত সপ্তাহখানেক ধরে হচ্ছে বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের ভেলকিবাজি। এতে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে ১৫/২০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি লো-ভোল্টেজের কারণে গ্রাহকের বাসা-বাড়ি, করাতকল, রাইস মিল, সরকারি অফিসের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটার, ফটোস্ট্যাট মেশিনসহ বিভিন্ন দামি দামি জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লো-ভোল্টেজের ফলে পুরো উপজেলাজুড়ে ইন্টারনেটের সেবাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রচণ্ড গরম তার সাথে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের কারণে অস্থিরভাবে দিন পার করছেন তারা। লো-ভোল্টেজের ফলে ফ্যান, এলইডি টিভি, কম্পিউটার কাজই করছে না। তবে বিদ্যুৎ ঠিকমতো পাওয়া গেলেও বিদ্যুতের বিল কিন্তু কমছে না বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা। তারপরও রয়েছে ৩৩ কেভি লাইনের মেরামত করার অজুহাতে প্রতি সপ্তাহে বিদ্যুৎ বন্ধের মাইকিং। উপজেলার সর্বত্রই অব্যাহত লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
বানিয়াচং নতুনবাজার বাজারের ফটোকপি ব্যবসায়ী আবদুর রহিম জানান, দিন ও রাতে বিদ্যুতের যাওয়া-আসার খেলা চলে। এর কারণে ব্যবসা খারাপ, বসে সময় পার করতে হচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে। চার্জ হচ্ছে না আইপিএসেও। এই লো-ভোল্টেজের কারণে অনেকের বাসা-বাড়িতে পানির মোটর কোনো কাজে আসছে না। ঠিকমতো পানি না উঠার ফলে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজ।
এই বিষয়ে বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ইঞ্জিনিয়ার মামুন মোল্লা জানান, কিছুটা সময় আমরা শ্রীমঙ্গল গ্রিডে যুক্ত ছিলাম। তাই এমনটা হইছে। পরবর্তীতে আবার এই উপজেলার লাইনটি শাহজিবাজার গ্রিডে যুক্ত করায় এখন আর লো-ভোল্টেজ হচ্ছে না। আশা করি এমনটা আর হবে না। তারপরও কোথাও যদি লো-ভোল্টেজ থেকে থাকে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
আপনার মন্তব্য