নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ১৮:৫৯

বালু উত্তোলনের ছবি তোলায় সাংবাদিককে গাছে বেঁধে মারধর

নদীর তীর কেটে বালু-পাথর উত্তোলনের ছবি তোলার চেষ্টা করায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা কামাল হোসেন (৩০) নামের একজন স্থানীয় সাংবাদিককে গাছের সাথে রশি ও কাপড় দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত অবস্থায় ওই সাংবাদিককে তাহিরপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট জাদুকাটা নদীর ঘাগটিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক কামাল হোসেন (৩০) জাতীয় দৈনিক সংবাদ ও সিলেটের আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক শুভ প্রতিদিনের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

কামাল হোসেন উপজেলার বাদাঘাট বাজার এলাকার কামরাবন গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের হাতে তোলে দিয়েছেন। সাংবাদিককে গাছে বেঁধে মারপিটের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হলে সেটি ভাইরাল হয়েছে।

আহত সাংবাদিক কামাল হোসেন জানিয়েছেন, তিনি সোমবার দুপুরে উপজেলার জাদুকাটা নদীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদের জন্য ছবি নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। তখন নদী তীরের ঘাগটিয়া গ্রামের মাহমুদুল ইসলাম, দীন ইসলাম ও রইস উদ্দিন গিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। পরে তারা তাকে ধরে এনে বাজারের একটি গাছের সাথে রশি ও কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে বেলা আড়াইটার দিকে কামাল হোসেনের পরিবারের লোকজন স্থানীয় বাদাঘাট ফাঁড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে ভর্তি করেন।

কামাল হোসেন বলেছেন, গাছের সাথে তাকে বেঁধে লোহার রড দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। তার কপালে ধারালো অস্ত্র (রামদা) দিয়ে আঘাত করায় কপাল কেটে গেছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। তিনি এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করবেন।

আহত সাংবাদিক কামাল হোসেনের ছোট ভাই রাসেল আহমদ জানান, খবর দিয়ে তার বড় ভাইকে নির্মমভাবে দিনেদুপুরে গাছে বেঁধে মারপিট করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের কঠিন বিচার চান তাদের পরিবার।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাহমুদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা খবর পেয়ে কামাল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। পরে তাকে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখেছেন।

তাহিরপুর থানার ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই দীপঙ্কর বিশ্বাস বলেন,‘ খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেছে। অভিযোগ পাওয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত