০৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ১৮:৩০
নেপালের রাষ্ট্রদূত ড. বনশিধর মিশ্রা বলেন, নেপাল বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্র। নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন দূরত্ব মাত্র ৩৭ কিলোমিটার, কিন্তু এসত্ত্বেও নেপালের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আশানুরূপ নয়। তার কারণ ট্যারিফ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। আমরা এই সমস্যাগুলো নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে আগামী অক্টোবর মাসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অন এরাইভ্যাল ভিসা সিস্টেম রয়েছে, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমরা দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে পারি। রাষ্ট্রদূত বলেন, নেপালে ফলমূল এবং শাক-সবজির দাম বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশী আমদানিরকারকরা নেপাল থেকে ফলমূল ও শাক-সবজি আমদানি করতে পারেন।
সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দ ও সিলেটের ব্যবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত ড. বনশিধর মিশ্রা। বৃহস্পতিবার, দুপুরে চেম্বার কনফারেন্স হলে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সাথে নেপালের রেল যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। এছাড়াও তিনি জানান, অতিশীঘ্রই বাংলাদেশ-নেপাল চেম্বার অব কমার্স গঠিত হতে যাচ্ছে। যেখানে বাংলাদেশ ও নেপালের প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ীগণ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। যার মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও শিল্প উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
সভায় সিলেটের ব্যবসাযীরা বলেন, সিলেটে অনেকগুলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ রয়েছে। যেগুলো থেকে নেপালের ছাত্র-ছাত্রীরা কমখরচে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও সিলেট থেকে কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষি পণ্য আমদানি করতে পারেন। সিলেটের শিল্প মালিকগণ নেপালের রাষ্ট্রদূতকে সিলেটের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সফরের অনুরোধ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০০ নেপালি ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে। আমরা আশাবাদী ভবিষ্যতে নেপাল থেকে আরো শিক্ষার্থী বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহী হবে। আমরা নেপালের শিক্ষার্থী ও বিনিয়োগকারীদের সিলেটে স্বাগত জানাই। তিনি আরো বলেন, পর্যটন খাতে সিলেট অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। যৌথভাবে উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের পর্যটন শিল্পকে আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিনী দূর্গা মিশ্রা, নেপাল এম্বেসীর সেকেন্ড সেক্রেটারী রঞ্জন যাদব, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি চন্দন সাহা, সহ সভাপতি তাহমিন আহমদ, সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইর পরিচালক খন্দকার সিপার আহমদ, অধ্যাপক ড. এম. ইকবাল, অধ্যাপক মো. তানভির আহমেদ চৌধুরী, ড. এম. এ. রকিব, ড. মোঃ রুবেল আহমেদ, সিলেট চেম্বারের পরিচালক মোঃ মামুন কিবরিয়া সুমন, মোঃ সাহিদুর রহমান, পিন্টু চক্রবর্তী, মুশফিক জায়গীরদার, আব্দুর রহমান, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, মোঃ আব্দুর রহমান (জামিল), আলীমুল এহছান চৌধুরী, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী, মোঃ আমিনুজ্জামান জোয়াহির, খন্দকার ইসরার আহমদ রকী, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক মোঃ হিজকিল গুলজার, সাবেক পরিচালক মুজিবুর রহমান মিন্টু, ইউকেবেট এর চেয়ারম্যান এম. এ. সায়েম, শিল্পোদ্যোক্তা মোঃ মইনুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম চৌধুরী, মোঃ আবুল কালাম, শফিউল আলম জুয়েল, মোঃ ফেরদৌস আলম, সামিয়া বেগম চৌধুরী, হেলেন আহমেদ, সুষমা সুলতানা রুহি, সানজিদা খানম প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য