নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ২০:১৫

একদিনেই কেটে গেছে ভয়

করোনার টিকা গ্রহণ নিয়ে মানুষের মাঝে একটা ভয় কাজ করছিল। শঙ্কা ছিল কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে কি না। তবে প্রথমদিনে টিকা গ্রহণের পর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় এই ভয় কেটে গেছে। মানুষ উৎসাহের সাথে টিকা নিচ্ছেন। মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দ্বিতীয় দিন টিকা নেওয়ার পর এমন কথা জানিয়েছেন টিকা গ্রহণকারীরা।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল ৯টায় টিকা দান শুরু হয়। চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এদিন মোট ১৯০ জন টিকা গ্রহণ করেছেন। ৩টি বুথে তাদের টিকা দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় দিনে প্রথম ধাপে বড়লেখায় সকালে টিকা নেন বড়লেখা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের হাকিম (ম্যাজিস্ট্রেট) হরিদাস কুমার, বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, বড়লেখা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাছনা, বড়লেখা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ উদ্দীন, বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রতন দেব নাথ, সহকারী মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হান্নান, প্রধান শিক্ষক বদরুল হোসেন, জুবের আহমদ, বাংলাদেশ স্কাউটস বড়লেখা উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও মোহাম্মদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, শিক্ষক দেবাশীষ দাস, বদরুল ইসলাম প্রমুখ।

টিকা গ্রহণের পর বড়লেখা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ উদ্দীন বলেন, ‘আজকে (সোমবার) টিকা নিয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে মানুষ স্বতস্ফুর্তভাবে টিকা দিতে গিয়েছেন। এটা দেওয়ার পদ্ধতি নরমাল ইঞ্জেকশনের মতোই। ভয়ের কিছু নেই। সকলের এগিয়ে আসা উচিত, দেওয়া উচিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ভারত সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ আমরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম দিন যারা দিয়েছেন তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। ভয়, ভীতি ও গুজব কেটেছে।’

বড়লেখা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত দাস বলেন, ‘টিকা নিয়েছি। সুস্থ্য আছি। টিকা নেওয়ার পরও স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে পারছি। খুব ভালো মনে হয়েছে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। সকলেরই দেওয়া উচিত।’

বাংলাদেশ স্কাউটস বড়লেখা উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও মোহাম্মদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘অতি সহজে বহুল কাঙ্খিত টিকা নিতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। সুস্থ্য আছি। আমি মনে করি, এটা একটা বিজয়। এজন্য আমাদের সরকার ও স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পশ্চাদমুখী চিন্তা ও গুজবে কান না দিয়ে সকলকে নির্ভয়ে ঠিকা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘করোনার টিকা দানে মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। প্রথম দিনের থেকে দ্বিগুণ মানুষ দ্বিতীয় দিনে টিকা নিয়েছেন। টিকাদানের পর এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। প্রথমদিনে টিকা গ্রহণের পর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দেওয়ায় মানুষের আগ্রহ ও টিকা গ্রহণের হার বেড়েছে। সরকার ৫৫ বছরের পরিবর্তে ৪০ বছরের উর্ধ্বে সকলকে টিকা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্রে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও মুঠোফোনসহ হাসপাতালে এসে সরাসারি নিবন্ধন করে টিকা গ্রহণেরও ব্যবস্থা রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বড়লেখায় প্রথম দিন টিকা নিয়েছিলেন ৬৪ জন।

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত