নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ১৫:৫৬

সিলেটে তৃতীয় দিনের মতো চলছে টিকাদান কার্যক্রম

সারাদেশের মতো সিলেটেও তৃতীয় দিনের মতো চলছে করোনার টিকাদান কর্মসূচি। তৃতীয় দিনে এসে টিকা নিতে আগ্রহ বেড়েছে সকল শ্রেণির মানুষের। এদিকে ভয়-শঙ্কা কাটিয়ে টিকা গ্রহণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমর্কীরা।

গত রোববার দেশের সহস্রাধিক হাসপাতালে টিকা দেয়ার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে শুরু হয় করোনা প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমের। গত দুইদিনের মতো মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেটে টিকাদান শুরু হয় সকাল আটটায়, যা শেষ হয় বেলা আড়াইটার দিকে। মঙ্গলবার সিলেট নগরের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম চলে।

মঙ্গলবার টিকাদানের চূড়ান্ত তালিকা এখনো গণমাধ্যমের কাছে এসে না পৌঁছালেই গত দুই দিনে সিলেটে টিকার আওতায় এসেছেন ২ হাজার ১৬৭ জন। যাদের মধ্যে প্রথমদিন রোববার ৯৪৮ জন নেন করোনা প্রতিরোধী টিকা ও টিকাদান কার্যক্রমের দ্বিতীয়দিন টিকা গ্রহীতার সংখ্যা ১ হাজার ২১৯ জন। যাদের ৮৩৪ জন পুরুষ ও ৩৮৫ জন নারী।

টিকাদান কর্মসূচির তৃতীয় দিন মঙ্গলবার সকালে সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে সরেজমিনে টিকা নেয়ায় বেশি আগ্রহ দেখা গেছে মানুষের মধ্যে। উৎসাহের সাথে মানুষজনকে টিকাগ্রহণ করতে দেখা গেছে। মানুষ টিকা নিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেককে টিকা নেয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সিলেটে আজ মঙ্গলবার ৪০ বছর ও তার তদূর্ধ্ব এবং সম্মুখসারীর করোনা যোদ্ধাদের টিকা নিতে দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত কেন্দ্রের ১০, ১১ ও ৪ নম্বর বুথে চারজনের টিকাদানের মাধ্যমে সিলেটে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম শুরু হয়। সিলেটে প্রথম টিকা গ্রহণ করেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসি। পরে টিকা নেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামসহ করোনাযুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধারা।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতায় করোনার টিকাদানের জন্য স্থাপিত মোট ১৪ টি বুথের মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে ১২ বুথ ও সিলেট বিভাগীয় পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ২ টি বুথ স্থাপন করে চলে টিকা কার্যক্রম। অপরদিকে সিলেটের প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি করে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জালালাবাদ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেও টিকা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ২ লাখ ২৮ হাজার ডোজ করোনা ভ্যাকসিন সিলেটে এসে পৌঁছে। সেদিন দুপুরে বেক্সিমকো ফার্মার একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাভার্ডভ্যানে ১৯০ টি কার্টনে ২ লাখ ২৮ হাজার ডোজের ভ্যাকসিন নগরীর চৌহাট্টাস্থ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে পৌঁছায়। যার প্রতি কার্টনে রয়েছে ১ হাজার ২০০ ভায়াল।


আপনার মন্তব্য

আলোচিত