১৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ১৮:৪৮
চুনাপাথর সঙ্কটের কারণে এক সপ্তাহ ধরে ছাতক সিমেন্ট কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিসিআইসির এ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকার ফলে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে সরকারকে।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, সিমেন্ট উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল চুনাপাথর। ভারত থেকে চুনাপাখর আমদানি করা হয়। তবে আমদানিকৃত চুনাপাথর দুই বছর ধরে অধিক মূল্যে খোলাবাজারে বিক্রি করার ফলে বর্তমানে চুনা পাথর সংকটে রয়েছে কারখানাটি।
এক সপ্তাহ ধরে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকার বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এফএম বারী জানান, চুনাপাথর সংকটের কারনেই বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
এদিকে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বেকার হয়ে পড়েছেন কারখানার অস্থায়ী শতাধিক শ্রমিক।
১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কারখানাটি বিসিআইসির একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিলো। দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে কারখানাটি ধীরে ধীরে একটি লোকসানি প্রতিষ্টানে রূপ নেয়। একাধিকবার ব্যালেন্সিং মর্ডানাইজেশন রেনোভেশন এন্ড এক্সপেনশননের (বিএমআরই) মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে কারখানাটি উৎপাদন সচল রাখা হয়। গত এক বছর ধরে কারখানায় একটি কিলনের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখা হয়। একটি কিলন কয়েক বছর আগে থেকেই বিকল হয়ে পড়ে। চালু থাকা কিলনটি প্রায়ই বন্ধ হয়ে মাঝেমধ্যে উৎপাদন পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানার একজন শ্রমিক জানান, প্রায় দেড় বছর পুর্বে সরকারি অনুদানের বিশ কোটি টাকা ব্যায়ে কিলনটি সংস্কার করা হয়। ক্যাথওয়েল কন্সট্রাকশন এ কাজটি করেছে। একটি সিন্ডিকেট এ কন্ট্রাকশনের নামে পুরনো কিলন ঘষামজা করেই বরাদ্দের টাকাগুলো হাতিয়ে নেয়। তখন থেকেই কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে জোড়াতালি দিয়ে।
এদিকে কারখানাটি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরের কাজ চলমান রয়েছে। কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া চলমান রেখেই প্রায় ৯শত কোটি টাকা ব্যয়ের এ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও ওয়েট প্রসেসের কারখানাটি প্রতিমাসে তিন চারবার কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকে। নতুন প্রজেক্টের কার্যক্রমেও রয়েছে ব্যপক দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
ছাতক সিমেন্ট কারখানার মহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন) অমল কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, চুনাপাথর সল্পতা ও পাম্পের কারিগরি সমস্যার কারণে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ সমস্যা জটিল কিছু নয়। শীঘ্রই উৎপাদন শুরু হবে।
আপনার মন্তব্য