তাহিরপুর প্রতিনিধি

১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ২২:৩৪

রোহিঙ্গা দুই বোনকে বিয়ে করেন দুই ভাই

তাহিরপুরে ৩ রোহিঙ্গাসহ ৫ জন আটক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে দুজন রোহিঙ্গা নারী, একজন পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। এদের সাথে  ২ জন বাংলাদেশি নাগরিককেও আটক করেছে তাহিরপুর থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বাগলী গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের ছেলে ফারুক ও তার স্ত্রী সুফায়রা (রোহিঙ্গা), ফারুকের ছোট ভাই মোবারক ও তার স্ত্রী রুবিনা (রোহিঙ্গা) এবং ওই দুই রোহিঙ্গা নারীর ভাইপো মোহাম্মদ শাফায়াত।

আটক ফারুকের ২ বছর বয়সি একটি ছেলে ও মোবারকের ১ বছর বয়সি একটি সন্তান রয়েছে।

সোমবার ও মঙ্গলবার উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বাগলী শুল্ক স্টেশন এলাকা থেকে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে তাহিরপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, গোপনে দুই খভাই দুই রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করেন। উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রপুর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে ফারুক মিয়া (২৬) তিন বছর আগে ২০১৭ সালে উখিয়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মৃত ইব্রাহিম আলীর মেয়ে সুপাইয়া বেগমকে (২০) বিয়ে করেন। বিয়ের পর সুপাইয়ার বোন রুবিনারও যাতায়াত ছিল ফারুকদের বাড়িতে। পরে রুবিনা আক্তারকেও (১৮) বিয়ে করে ফারুকের ভাই মোবারক হোসেন (২১)। কাজী বা রেজিস্ট্রি ছাড়াই স্থানীয় আলেম এই দুই বিয়ে পড়ান।

ফারুক ও সুপাইয়া দম্পত্তির ফরহাদ হোসেন নামের ৬ মাস বয়সী এবং মোবারক ও রবিনা আক্তারের রিফাত হোসেন নামের ৪ মাস বয়সী শিশুসন্তান রয়েছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ওই দুই রোহিঙ্গা নারীর ভাইপো মোহাম্মদ শাফায়াত নামে এক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাগলী এলাকায় আসলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে ওই রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ শাফায়াতকে জিজ্ঞসাবাদ করে মূল ঘটনা জেনে তাকে আটক করে রাখেন স্থানীয়রা।

পরে বিষয়টি তাহিরপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ তরফদারকে অবগত করলে তাৎক্ষণিক ট্যাকেরঘাট ফাঁড়ি থানার ইনচার্জ এএসআই আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজন বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা শরণার্থী ১ জনকে আটক করেন।

এরপর মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে আরো ২জন রোহিঙ্গা শরণার্থী নারী ও এক বাংলাদেশী নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।

তাহিরপুর থানার ওসি মোঃ আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, ৫জন আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


তিনি আরও বলেন, দুই রোহিঙ্গা তরুণীকে বিয়ে করেছেন ইন্দ্রপুর গ্রামের দুই সহোদর। তাদের দুই শিশুসন্তানও রয়েছে। তাদের আত্মীয় রোহিঙ্গা তরুণসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মিজানুর রহমান রোহিঙ্গাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জিজ্ঞাসাবাদের আগে এর বেশি তথ্য জানানো যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত