তাহিরপুর প্রতিনিধি

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০১:৩৭

ধান কাটার যন্ত্র পেয়ে খুশি হাওরের কৃষকরা

সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলায় করোনার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে বোরো ধান ঘরে তুলতে হাওরে নেমেছে কৃষক। কষ্টের ধান গোলায় তুলতে তাদের পরিবারের সদস্যরাও মাঠে নেমেছেন। এবার কৃষকের ধান কাটা অনেকটা সহজ হয়ে ওঠেছে কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিনের কারণে। সরকারি ৭০ শতাংশ প্রনোদনায় ধান কাটার যন্ত্রটি ব্যবহার করতে পারছেন কৃষকরা।

ধানকাটা শ্রমিকের সংকটে কম সময়ে, কম খরছে ধান কাটতে পেরে তৃপ্ত কৃষকরা। এরফলে অকাল বন্যা শুরু হওয়ার আগেই ধান কাটা শেষ করা যাবে বলেও আশা তাদের।
 
জানাযায়, উপজেলায় ৭০ শতাংশ ভূর্তুকিতে ১০টি কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন ধান কাটার জন্য কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এই মেশিন দিয়ে ধান কাটতে মেশিন মালিকরা প্রতি একরে ১হাজার থেকে ১২শ' টাকা নিচ্ছে। আর হাওরের বেশী ভিতরে গিয়ে ধান কাটতে হলে তেল খরচ বাবদ ১-২শত টাকা বেশী নিচ্ছে। জায়গা বিশেষে ১৪শত থেকে ১৫শত টাকা নিচ্ছে।

কৃষকরা জানান, হাওরে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে, মাড়াই(মেশিন) ও পরিবহন (ট্রলি)করতে গিয়ে কৃষকদের ২৫০০-৩০০০ হাজার টাকা খরচ হয়। সে দিক দিয়ে কম্বাইন হারবেষ্টার মেশিন দিয়ে ধান কেটে উপকৃত হচ্ছেন বলে জানান হাওর পাড়ের কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপজেলার বৃহত্তর শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া, শমসা, চুনখলা, বলদা, গুরমা, ফানা হাওরসহ ২৪টি ছোট বড় হাওরে এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছে। হাওরগুলোতে ১৭৯৮০হাজার হেক্টরের বেশী বোরো জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এতে ৮০হাজার মেট্রিকটনের বেশি চাল উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এর মূল্য ২শ ৪৪কোটি ৮০লাখ টাকার বেশি।

শনির হাওরের কৃষক জামাল মিয়া জানান, তিনি ৬কিয়ার জমিতে এবার বোরো ধানের চাষ করেছেন। ফলন ভাল হয়েছে। হাওরের জাঙ্গালগুলো ভাল না থাকায় শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা, আনা ও মাড়াই করা সব মিলিয়ে ২৫০০-৩০০০ টাকা খরচ হয়। এতে করে গরুর খাদ্য সংগ্রহ করা যায় কষ্ট বেশী নিজেরাই বেশীর ভাগ কাজ করতে হয়। আর কম্বাইন্ড হারবেষ্টার মেশিন দিয়ে কম সময়ে ধান কাটা মাড়াইয়ে অর্ধেক খরচ হচ্ছে পাশাপাশি কষ্টও কম। তবে এক্ষেত্রে গরুর খাদ্য সংগ্রহ করা যায় না। তবে মেশিনে ধান কেটে অনেক কৃষক লাভবান হচ্ছে। এই উপজেলায় আরো ধান কাটার মেশিন দেয়া প্রয়োজন।

কৃষক কাজল চন্দ্র দেবনাথ জানান, তিনি এবার ১হাল জমিতে ২৮ ও ২৯ ধানের চাষ করেছেন। এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। গরুর খাদ্য যোগানোর জন্য খরচ বেশী হলেও জমি থেকে শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে এনে মাড়াই করছি দিন ভর সাথে থাকতে হয়। কম্বাইন হারবেষ্টার মেশিন ধান কাটলে খরচ কম হত লাভবান হওয়া যায়। কিন্তু গরুর খাদ্য পাওয়া যায় না এই একটা সমস্যা। তারপরও মেশিনের অনেক লাভ। কারন পরিবহনের সময় অনেক ধান পড়েও যায়। অনেক কৃষককেই মেশিন দিয়ে ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ করছে।

কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন দিয়ে শনির হাওরে ধান কাটছেন আতিকুর রহমান। তিনি জানান, হাওরে মেশিনে ধান কাটতে কম সময়, কম টাকা ও কম পরিশ্রম হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতি কিয়ারে খরচ নিচ্ছি ১ হাজার থেকে ১২শত টাকা। জায়গা বিশেষে ১৪শত টাকা থেকে ১৫শত টাকা নিচ্ছি। আর শ্রমিক দিয়ে ধান কাটলে দ্বীগুন খরচ হয় কষ্ট ও বেশী।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দোলা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেকোনো মূল্যেই হাওরে কৃষকের কষ্টের ধান যাতে শ্রমিকের অভাবে ক্ষেতে নষ্ট না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমি ও আমার সহকর্মীরা প্রতিদিনই হাওরে ঘুরছি আর দ্রুত ধান কাটতে ও কম্বাইন হারবেষ্টার মেশিনের সহায়তা নিতে বলছি। তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে সরকারী প্রনোদনায় ১০টি মেশিন কম মূল্যে ধান কাটার কাজে পুরোদমে কাজ করছে। ধান কাটা শ্রমিকের সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই কম্বাইন হারবেষ্টার। এতে কৃষকরাও খুশি। তাছাড়া স্থানীয় বালু ও পাথর মহাল বন্ধ থাকায় সেখানকার শ্রমিকরাও হাওরের ধানকাটায় আসলে শ্রমিক সংকট থাকবে না।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত