সিলেটটুডে ডেস্ক

১৪ নভেম্বর, ২০১৫ ২২:৫১

ফেঞ্চুগঞ্জে সাংসদ মাহমুদ উস সামাদকে সংবর্ধনা, সোনার নৌকা উপহার

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে ফেঞ্চুগঞ্জে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরের চন্ডিপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংসদকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের সোনার নৌকা উপহার দেয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্প ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল সার কারখানা স্থাপনে ভূমিকা রাখায় স্থানীয় সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে ফেঞ্চুগঞ্জের 'সর্বস্তরের জনসাধারণ' এই সংবর্ধনা প্রদান করে।

তবে উপহার পাওয়া সোনার নৌকাটি একজন ক্যান্সার আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা মকবুল আলীর চিকিৎসার্থে দান করে দেন এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি নাগরিক সংবর্ধনা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলীর সভাপতিত্বে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন। এদেশের মাটি ও মানুষের সাথে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের রয়েছে আত্মার সম্পর্ক। উনসত্তরের গণঅভূত্থান থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছে, জাতির কল্যাণে প্রাণ দিয়েছে অগণিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। আর তাই দেশের মানুষ বার বার আওয়ামী লীগের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছে।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আরো বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরীর আধুনিকায়নের জন্য সংগ্রাম শুরু করেছিলেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। দীর্ঘ প্রায় ৩ দশক তিনি এই দাবী নিয়ে সরব আছেন জাতীয় পর্যায়ে। অবশেষে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মত করে দেশী বিদেশী দাতা সংস্থাগুলোর সাথে দেন দরবার করে পুরনো ঐ সার কারখানাটির পাশেই একটি আধুনিক সার কারখানা প্রতিষ্ঠায় তিনি সফল হয়েছেন। এই সার কারখানা স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন প্রকল্পে অতীতে এত বড় অংকের অর্থ খরচ করা হয়নি।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওযামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাবেক গণপরিষদ সদস্য এডভোকেট লুৎফুর রহমান, যুক্তরাজ্যের খ্যাতিমান মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক জাকির হোসেন, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, সিলেট জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট জসিম উদ্দিন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আজাদুর রহমান আজাদ, বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নাগরিক সংবর্ধনা পরিষদের সদস্য সচিব, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ভাস্কর রঞ্জন দাস।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাবেক গণপরিষদ সদস্য এডভোকেট লুৎফুর রহমান বলেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল হওয়া সহজ। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবার মাধ্যমে মন জয় করা কঠিন কাজ। এমপি মাহমুদ উস সামাদ তার নির্বাচনী এলাকায় দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এই জনপদবাসীর হৃদয়ে স্থায়ী আসন অর্জন করে নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী পর পর দুই বার সিলেট-৩ আসনের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তার সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন বলেই মানুষ তাকে ভালবাসে। ফেঞ্চুগঞ্জবাসীর জন্য দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম উন্নয়ন প্রকল্প প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজালাল সার কারখানা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি যে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন তা এদেশের ইতিহাসে অনন্য।

আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ২০ কোটি লোকের বাংলাদেশে এমপি মাত্র সাড়ে ৩ শ‘। এত অল্প সংখ্যক জনপ্রতিনিধির পক্ষে দেশের অভাব অভিযোগের কথা সংসদে তুলে ধরা কষ্টকর। কিন্তু এক্ষেত্রে এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এদেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মিফতার, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আলতাউর রহমান রুনু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব আলী, মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাসিত, ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিরুল ইসলাম মুরাদ, ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ বাবুল, ফেঞ্চুগঞ্জ বণিক সমিতি নেতা আব্দুল বারি, আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল আলম, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা জিলাল আহমদ, উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি বিজন দেবনাথ, ছাত্রলীগ নেতা মাসার আহমদ শাহ, উপজেলা আঞ্জুমানে আল ইসলাহ নেতা তরিকুল ইসলাম তোফা। আব্দুল আউয়াল কয়েস ও মাহফুজুর রহমান জাহাঙ্গীরের যৌথ পরিচারলনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আব্দুল জলিল। শতাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়।

সংবর্ধনার জবাবে সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি উপজেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, যে সুখ আমাকে পাশ্চাত্যের জীবন দিতে পারেনি, বিত্ত দিতে পারেনি, বার বার সেবা করার সুযোগ দিয়ে সেই সুখ আমাকে দিয়েছে আমার এলাকার মানুষ। আমৃত্যু জনসেবার সেই সুখ নিয়ে আমি আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের পাশে থাকতে চাই।

মাহফুজুর রহমান জাহাঙ্গীর ও আব্দুল আউয়াল কয়েছের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব আলী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শহীদুর রহমান রুমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা বেগম শ্যামা, সাংবাদিক শাহ মুজিবুর রহমান জকন, নাঈম জালাল চৌধুরী, মাইজগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাছিত, ফেঞ্চুগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান জাহিরুল ইসলাম মুরাদ, ডাক্তার জাহির হোসেন, ফেঞ্চুগঞ্জ বণিক সমিতির আহবায়ক আব্দুল বারি, আল ইসলাহ নেতা তরিকুল ইসলাম তোফা, ফেঞ্চুগঞ্জ মাধ্যমিক স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের পক্ষে জুবেদ আহমদ চৌধুরী শিপু, শিক্ষক ফোরাম সমিতির পক্ষে হারুনুর রশীদ, মাদরাসা শিক্ষক সমিতির পক্ষে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আতহার, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষে ময়ুব আলী, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষে শহিদুজ্জামান, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষে অধ্যক্ষ বরীন্দ্র কুমার নাথ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আকরাম আলী, উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি আতাউর রহমান রুনা, পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষে নজরুল ইসলাম মিফতা, পল্লী বিদ্যুত সমিতির পক্ষে বিজন দেবনাথ, ইমাম সমিতির আব্দুল কাদির জিলাল, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাশার আহমদ শাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা আব্দুল জলিল। মানপত্র পাঠ করেন শিক্ষক শ্রাবনী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত