৩০ মে, ২০২১ ১৮:২১
বিশ্বব্যাপী বিপন্ন এবং বাংলাদেশে মহাবিপন্ন অবস্থায় থাকা ‘চশমাপরা’ হনুমান বাঁচাতে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। তারা ঢাকা থেকে সাইকেলে করে পথে বিভিন্ন এলাকায় চশমাপরা হনুমান নিয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপ করে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে।
তিনি শিক্ষার্থী হচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সজিব বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সুশীল মালাকার, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র নিলয় চন্দ্র ম-ল।
গত ২২ মে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে থেকে যাত্রা শুরু করে গত শুক্রবার তারা অবস্থান করেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায়। গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে পথে থেমেছেন শতাধিক স্থানে এবং আলাপ করেছেন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে। ৩০ মে সাইকেল চালিয়ে তারা আবার ঢাকায় ফিরেছেন।
শুক্রবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সামনে দেখা হয় এই দলের সঙ্গে। তাদের দলনেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সজিব বিশ্বাস। তিনি চশমাপরা হনুমান সংরক্ষণ বিষয়ক গবেষক দলেরও সদস্য।
তিনি জানান, বাংলাদেশে চশমাপরা হনুমানের জন্য শেষ আশ্রয়স্থল সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের হাতেগোনা কয়েকটি বন এলাকা। তাই আমরা প্রথমেই সিলেট বিভাগ বাছাই করেছি। আসার পথে এবং আসার পর আমরা জায়গায় জায়গায় মানুষের সঙ্গে আলাপ করেছি- কেন চশমাপরা হনুমান সংরক্ষণ করা জরুরি এবং এই প্রাণী রক্ষায় স্থানীয় জনগণ কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে। সাধারণ মানুষকে খুব আগ্রহী মনে হয়েছে। যেসব বনে এই প্রাণীটি আছে সেখানে আমরা একটু বেশি মানুষের সঙ্গে আলাপ করেছি। স্থানীয় জনগণের অনেকেই আমাদের কথা দিয়েছেন তারা এই মহাবিপন্ন হনুমান রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।
‘রাইডিং ফর কনজারভেশন’ নামের এই উদ্যোগে সজিব বিশ্বাসের অন্য দুই সহযোগী সুশীল মালাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ও নিলয় চন্দ্র ম-ল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র। এই দলের তিনজনই বন্ধু ও প্রকৃতিপ্রেমী এবং সাইকেল রাইডিং তাদের শখ।
প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টে (নেকম) কর্মরত বানর জাতীয় প্রাণীর গবেষক তানভীর আহমেদ চশমাপরা হনুমান সংরক্ষণ নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমাদের সর্বশেষ ২০১৮-১৯ সালের জরিপ অনুযায়ী সিলেট বিভাগের ৬ বনে মাত্র ৪০০ চশমাপরা হনুমান টিকে আছে। গত তিন প্রজন্মে চশমাপরা হনুমানের সংখ্যা পৃথিবীব্যাপী ৫০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশে ৮০ শতাংশ কমেছে। তাই তাদের এই উদ্যোগের ফলে যদি স্থানীয় মানুষ সচেতন হন তবে রক্ষা পাবে চশমাপরা হনুমান।
আপনার মন্তব্য