০৪ জুন, ২০২১ ২১:২১
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জের শাল্লার যুবক ঝুমন দাসের মুক্তি দাবি করেছেন ২৪ বিশিষ্ট নাগরিক। তারা শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।
ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের এক যুবক আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন, এমন অভিযোগ তুলে ১৭ মার্চ সুনামগঞ্জের শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় গ্রামের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়। অন্তত ৯০টি বাড়িতে হামলা করা হয়।
ঝুমন দাস আপনের (২৮) বিরুদ্ধে ২৪ মার্চ শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়।
বিবৃতিদাতারা বলেন, এ ঘটনায় মামলা করার পর কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার ঝুমন দাশ আপনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে। এ মামলায় ঝুমন দাশ ৮০ দিন ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন। ঝুমন দাসের বিরুদ্ধে করা মামলায় সুনামগঞ্জ মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট জামিন না দেওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ঝুমন দাশের জামিনের আবেদন করা হয়। কিন্তু কয়েক দফা শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত ঝুমনের জামিন মঞ্জুর করেননি। যদিও ইতিমধ্যে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বসতিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার আসামিদের অনেকেরই জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় কঠোরতার বিপরীতে ভুক্তভোগীর প্রতিই রাষ্ট্রের কঠোরতা দৃশ্যমান। এটি স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, একই সঙ্গে সংবিধান পরিপন্থী।
বিবৃতিতে বলা হয়, শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বসতিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। এর আগেও কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের বসতিতে, যশোরের মালোপাড়া, ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়া-কর্ণাই, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, রংপুরের পাগলাপীর, ভোলার বোরহানউদ্দিন, কুমিল্লার মুরাদনগরসহ বিভিন্ন স্থানে একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে কটাক্ষ করে পোস্ট দিয়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিদাতারা বলেন, সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে বেড়ানো ও সামাজিক সংহতি বিনষ্টকারী সংগঠন হেফাজত ইসলামকে সমীহ করতে গিয়ে রাষ্ট্র ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করছে।
বিবৃতিদাতারা ঝুমন দাশসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা সবার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সুলতানা কামাল, পঙ্কজ ভট্টাচার্য, ডা. সারওয়ার আলী, রামেন্দু মজুমদার, ডা. ফওজিয়া মোসলেম, এস এম এ সবুর, রানা দাশ গুপ্ত, জাহিদুল বারী, নুর মোহাম্মদ তালুকদার, খুশী কবির, রোকেয়া কবির, এম এম আকাশ, রোবায়েত ফেরদৌস, সালেহ আহমেদ, মো. জাহাঙ্গীর, পারভেজ হাসেম, মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, আবদুর রাজ্জাক, দীপায়ন খীসা, জীবনানন্দ জয়ন্ত, সেলু বাসিত, অলক দাস গুপ্ত, এ কে আজাদ ও গৌতম শীল।
আপনার মন্তব্য