বড়লেখা প্রতিনিধি

০৬ জুন, ২০২১ ০০:১৯

পানজুম দখলের ঘটনায় আরও একজন গ্রেপ্তার, কারাগারে

মৌলভীবাজারের বড়লেখা

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বনাখলাপুঞ্জির পানজুম দখলের ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম শফিক উদ্দিন ওরফে বাউল শফিক (৭০)।

শনিবার (৫ জুন) আদালতের মাধ্যমে তাকে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় গত ২ জুন মুখলেছ (৪০) ও মহরম আলী ওরফে কুটুন মিয়াকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ জুন) বিকেলের দিকে বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রতন দেবনাথের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রতন দেবনাথ শনিবার রাত ১১টায় বলেন, ‘তদন্তে পুঞ্জি দখলের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। একারণে শুক্রবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরআগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার এজাহারনামীয় ও তদন্তেপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।’

গত শুক্রবার (২৮ মে) সকালে বোবারথল এলাকার আব্দুল বাছিত, পিচ্চি আমির, লেছই মিয়ার নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বনখলাপুঞ্জির খাসিয়া আদিবাসিদের ৭০ একর জুমের জায়গা দখল করে নেয়। একসপ্তাহের মধ্যে তাদের ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে খাসিয়াদের তারা জুমে প্রবেশ করতে দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। এরপর জুম দখল করে সেখানে তারা কয়েকটি ঘরও নির্মাণ করে খাসিয়াদের তাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় গত রোববার (৩০ মে) পুঞ্জির নারী মান্ত্রী (পুঞ্জি প্রধান) নরা ধার ও ছোটলেখা বাগানের প্রধান টিলা করণিক মো. দেওয়ান মাসুদ থানায় পৃথকভাবে দুটি মামলা করেন।   

এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দখলদারদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে সরে যাওয়ার আল্টিমেটাম দেয় প্রশাসন। কিন্তু সরেনি দুস্কৃতিকারীরা।

এরপর শুক্রবার (৪ জুন) বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে জুমটি দখলমুক্ত করে। দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের টের পেয়ে দখলদাররা জুম ছেড়ে পালিয়ে যায়। এসময় জুমে দখলদারদের তৈরি করা ৩টি টিনশেডের ঘর উচ্ছেদ করে খাসিয়া ও চা-বাগানের কাছে জুমের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় এক সপ্তাহ পর জুম দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরে খাসিয়াদের মধ্যে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত