০৬ জুন, ২০২১ ২২:২১
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)সিলেট ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সিলেট এর যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে (অনলাইন) আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে প্রয়োজন প্রাকৃতিক সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার এই বিষয়ের উপর মুক্ত আলোচনায় সরকারি বেসরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক,বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, বেলার নেটওয়ার্ক সদস্যগণ, সনাক পরিবারের সদস্যগণসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিগণ অংশ নেন।
শনিবার (৫ জুন) সকাল ১১টায় ‘প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, হোক সবার অঙ্গীকার’ এই প্রতিপাদ্যে অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সিলেট নেটওয়ার্ক সদস্য সনাক সিলেট সদস্য অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভাটি সভাপতিত্ব করেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সিলেট সভাপতি সমিক সহিদ জাহান। প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন।
সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার, শাবিপ্রবির সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম, শাবিপ্রবির ফরেস্ট এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন|
সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) হেড অব দ্যা প্রোগ্রাম মো. খরশেদ আলম। সভার ম‚ল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)র সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার। মূল প্রবন্ধে প্রাকৃতিক সম্পদের অপরিকল্পিত ব্যবহার কিভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঢেকে আনছে তা তথ্য উপাত্তসহ তুলে ধরা হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে মুক্ত আলোচনায় সরকারি বেসরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক,বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, বেলার নেটওয়ার্ক সদস্যগণ, সনাক পরিবারের সদস্যগণসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিগণ।
শাবিপ্রবির সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, সিসমোগ্রাফিক স্টাডি অনুযায়ী ডাউকি ফল্টে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তি সঞ্চিত আছে। সিলেটে ১৯১৮ সালে সর্বশেষ বড় ভূমিকম্প হয়। এ অঞ্চলে ৬ মাত্রার বা তার উপরের ভূমিকম্প ১০০-১২০ বছর পরপর হওয়ার উদাহরণ রয়েছে। শুধুমাত্র ফল্টের কাছাকাছি অংশে হবে বিষয়টা আবার সিলেটে গত দুই দশকে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। মাটি শুকিয়ে গেলে ভূকম্পন বেশি অনুভূত হয়। দেশের শতকরা ৬০ ভ্গা গ্যাস সিলেট থেকে উত্তোলন করা হয়। এ কারণে ভূগর্ভের অভ্যন্তরে একধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে যার কারণে ভূকম্পন হতে পারে। গভীর গর্ত করে পাথর উত্তোলনের কারণেও ভূগর্ভের ভেতরে শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এটাও ভূমিকম্পের জন্য দায়ী। ভূমিকম্পের দুর্যোগকালীন আশ্রয়ের জন্য সিলেট এমসি কলেজ মাঠ ও সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা মাঠকে সংরক্ষণ করার করার কথা বলা হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ন‚র আজিজুর রহমান বলেন, আমাদের জ্বালানী সম্পদ গ্যাসের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।সিলেট সিটি করপোরেশনের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমানোর জন্য গভীর নলক’প এর ব্যবহার কমানোর বিষয়টি আছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরের পুকুর দিঘী রক্ষায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সংরক্ষণ কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সামগ্রিক স্বার্থে উন্নয়ন এবং পরিবেশকে সামঞ্জস্য করে চলতে হবে।আমাদের বনাঞ্চল ধ্বংস করে মাটিকে বৃক্ষশূন্য করে ফেললে এতে করে মাটির ক্ষয় হয়ে জলাধার ভরাট হয়ে যাবে।বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বনকে বাচাতে হবে। সরকার সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে গাছ কেটে অংশীদারিদের ভাগ প্রদানের রীতি থেকে সরে আসছে।বন রক্ষায় সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশল মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, পরিবেশ নদী এগুলো নিয়ে আলোচনার টেবিলে যত বেশি কথা হয়, কিন্তু কাজ তেমন হয় না। বিশ্বনাথের বাসিয়া নদী খনন করার সময় দেখা গেলো অবৈধ দখলদারদের কারণে মাটি সরানোর জায়গা নেই। সরকার নদী খাল পুনঃখননের কাজ হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে ৭৮টি খাল খননের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, সিলেটের পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সংশোধনী আনার প্রয়োজন আছে। আমরা উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করছি। সিলেটে পাহাড়, টিলা,বন, বৃষ্টি, সবুজ প্রকৃতির একটা ঐতিহ্য আছে। এসব কারণে সিলেটকে প্রকৃতি কন্যা বলা হয়। সিলেটের এ প্রকৃতিগত ঐতিহ্য যাতে আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে রূপকথা না হয় সেজন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
আপনার মন্তব্য