নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ জুন, ২০২১ ০২:১২

ধীরাজ হত্যা: নয় দিনেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার গহরপুরে ইটভাটার ব্যবস্থাপক ধীরাজ পালকে (৬০) হত্যার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ছে পুলিশ। এরমধ্যে ৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অপর ৩ জনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

তবে ৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেও হত্যাকান্ডের কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিংকু চন্দ্র দাশ।

তিনি বলেন, ধীরাজ পাল হত্যার ঘটনায় অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরম্যধ্যে ৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এবং আরও ৩ জনের রিুমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার ক্লু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, এই মামলায় গত ৩১ মে সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আহমদের ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে
ইটভাটার মালিক ও ক্যাশিয়ার মেরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইটভাটার সহকারী ব্যবস্থাপক সুহেদ আহমদ ও সিএনজি অটোরিকশা চালক রুবেলকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গত বৃহস্পতিবার তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এরপর টাক চালক ইকবাল হোসেন, তার সহকারি তোফায়েল আহমদ ও ইটভাটার নৈশপ্রহরী রাসেল আলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। সোমবার এই রিমান্ড আবেদনের শুনানি হতে পারে।

রিমান্ডে নিয়ে ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেনি বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে। ক্লু-লেস মামলা হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি দ্রুতই এই মামলার রহস্য উদঘাটন করতে পারবো।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে দুপুরে বালাগঞ্জের গহরপুর রতনপুর ব্রিকফিল্ডের ব্যবস্থাপক ধীরাজ পালকে তার কর্মস্থলে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর স্থানীয়রা ধীরাজ পালকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর ২৯ মে ধীরাজ পালের ছেলে প্রভাকর পাল বাপ্পা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে বালাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে ৩০ মে দুপুরে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন আলমপুর এলাকাবাসী। মানববন্ধন পরবর্তী সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে অবরোধ করেন তারা।

নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকান্ডের কোনো ক্লু উদ্ধার করতে না পারায় ক্ষোভ বিরাজ করছে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত