০৫ জুলাই, ২০২১ ২১:৩৬
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি প্রায় ১১ বছর ধরে বিকল হয়ে আছে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে জনবল সংকট। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা শিকার হচ্ছেন ভোগান্তির।
জানা গেছে, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা। উপজেলা থেকে জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। চিকিৎসা ক্ষেত্রে উপজেলাবাসীর একমাত্র ভরসা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট নিয়ে কোনোমতে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এই হাসপাতালটি। গুরুতর কোনো সমস্যা হলে জেলা সদর, না হলে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরত্বের সিলেটে রোগী নিয়ে যেতে হয়।
এদিকে করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। করোনা আক্রান্ত রোগীর গুরুতর কিছু হলে এখানে উন্নত চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা নেই। তবে করোনা চিকিৎসার প্রাথমিক প্রস্তুতি আছে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪টি কেবিন ও ১৫টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। হাসপাতালের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ২২টি। এগুলো থেকেই করোনা রোগীকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। এই হাসপাতালে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনার শুরু থেকে সোমবার পর্যন্ত নবীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৫১ জন। মৃত্যুবরণ করেন একজন। গত এক সপ্তাহে ১৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ৪ জন হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। বাকিরা বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, এখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত এই জনবল নিয়ে মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবলের ঘাটতি পূরণ হলে উপজেলাবাসীকে আরো ভালোমানের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
প্রায় তিন বছর আগে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু দেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয় জনবল। যেখানে জনবল সংকট নিয়ে ৩১ শয্যার থেকে কম জনবল নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে এই জনবলের ঘাটতি নিয়েই পরিচালনা করা হচ্ছে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কর্তৃপক্ষ সীমিত জনবল দিয়েই কোনোমতে উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু ৫০ শয্যা অনুযায়ী যে জনবল নিয়োগ দেওয়ার কথা, তা এখনো দেওয়া হয়নি। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। ৩১ শয্যার জনবলের মধ্যেই মেডিকেল অফিসার ১টি পদের মধ্যে ১টিই শূন্য, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ (গাইনি চিকিৎসক) ১টি পদের ১টি শূন্য, সার্জারি চিকিৎসক ১টি পদের ১টি শূন্য, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ১টি পদের ১টি শূন্য, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) পদটি প্রায় ১২ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। টেকনোলজিস্টের অভাবে প্রায় ১১ বছর ধরে বিকল হয়ে আছে এক্স-রে মেশিন। এতে রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে সুবিধা পাচ্ছেন না। প্রায় ৭ বছর ধরে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) ২টি পদের একটি শূন্য। এতে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের ছুটতে হয় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
অন্যদিকে নার্সের ১৪টি পদের মধ্যে ৭টি শূন্য, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ১১টি পদের মধ্যে ৭টি পদ শূন্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৪টি পদের ৪টি শূন্য, অফিস সহকারীর ৩টি পদের মধ্যে ১টি পদ শূন্য, ক্লিনারের ৫টি পদের মধ্যে ১টি পদ শূন্য, এমএলএসএস ৩টি পদের ৩টি পদ শূন্য, আয়া ২টি পদের ২টি শূন্য, ওয়ার্ড বয় ২টি পদের ২টি পদ শূন্য, বাবুর্চি ২টি পদের ২টি শূন্য, মালি ১টি পদের ১টি শূন্য।
নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ সিলেটটুডেকে বলেন, ‘৩১ শয্যার কম জনবল দিয়েই ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে। ৩১ শয্যার জনবলেও বেশ কিছু পদ শূন্য আছে। এই সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সাধ্যমতো জনগনকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছি। এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট আছে প্রায় ১১ বছর ধরে। তবে ভালো খবর হচ্ছে সম্প্রতি একটি নতুন এক্স-রে মেশিন এসেছে। শীঘ্রই আমরা এটি চালু করতে পারব। এছাড়া জনবল নিয়োগের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলমান আছে। জনবল বাড়লে স্বাস্থ্য সেবার মান আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, করোনার মৃদু হতে মাঝারি উপসর্গের রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা আমাদের এখানে আছে। তবে গুরুতর উপসর্গের করোনা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রেফার করা ব্যতীত ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই।’
আপনার মন্তব্য