মো. বেলাল হোসাইন:

০৭ জুলাই, ২০২১ ০১:৫৭

৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও নেই ৩১ শয্যার জনবল

জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রায় তিন বছর আগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় মৌলভীবাজারে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে। কাগজে-কলমে ৫০ শয্যার হলেও জনবল নেই ৩১ শয্যারও। অথচ প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ রোগীকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এঅবস্থায় জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টম্বরে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু অনুমোদন হয়নি ৫০ শয্যার প্রয়োজনীয় জনবলকাঠামো। অন্যদিকে ৩১ শয্যার জনবলকাঠামো অনুযায়ী যে জনবল দরকার, এখানে তা-ও নেই। এখানে চিকিৎসক ও নার্স সংকট সবচেয়ে বেশী। চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু করা যাচ্ছে না। এতে ওটির যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় বিকল হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) একজন থাকার কথা থাকলেও পদটি শূন্য রয়েছে। জুনিয়র কনসালটেন্ট ৪ জনের মধ্যে রয়েছেন ১ জন। তিনিও প্রেষণে মৌলভীবাজারে থাকেন। হাসপাতালটিতে মেডিকেল অফিসার আছেন মাত্র ২জন। নার্সের ১৪ জনের মধ্যে আছেন ৪ জন। ১০টি পদই শূণ্য। নার্সিং সুপারভাইজার ১ জন থাকার কথা থাকলেও সেটিও শূন্য। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) ৫ জনের মধ্যে আছেন ১ জন। সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন। স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৩ জনের একজনও নেই। মিডওয়াইফ ৪ জনের মধ্যে আছেন ৩ জন। ১০ জন আয়া থাকার কথা থাকলেও নেই একজনও। বর্তমানে স্বেচ্ছাশ্রমে একজন পরিচ্ছন্নতার কাজটি করছেন। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদটিও খালি পড়ে রয়েছে। ১টি এক্স-রে মেশিন আছে। তবে সেটা শুধুমাত্র যক্ষা রোগ নির্ণয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্য রোগ নির্ণয়ে এক্সরে মেশিনটি কাজে আসছে না। এক্স-রে মেশিনটি পরিচালনার জন্য আইইডিসিআর প্রকল্পের অধীনে অস্থায়ীভাবে একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
 
জনবল সংকটের কথা নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সমরজিৎ সিংহ সিলেটটুডেকে বলেন, ‘৩১ শয্যার জনবলেই সংকট আছে। এরমধ্যে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে প্রায় ৩ বছর হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী জনবল জনবলকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ৩১ শয্যারও জনবল সংকট নিয়েও রোগীদের আমরা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। জনবল পাওয়া গেলে ভালো মানের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ সিলেটটুডেকে বলেন, ‘জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকটের বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই জনবল সংকট কাটবে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত