১৯ জুলাই, ২০২১ ২৩:১০
সরকার ভূমি ও গৃহহীনদের ঘর দিলেও আমি পাই নি। আমারে সবাই খালি ধোঁকা দেয়। দিমু কইয়া কিছুই দেয় না। যৌবনে শরীরে শক্তি ছিল,বাড়ি,জমি আর সম্পদও। আমি বড় অসহায়, নেই স্ত্রী, ছেলে মেয়ে। অভাবে পরে আর সময়ের ব্যবধানে এখন সব শেষ,বৃদ্ধ বয়সে অন্যের ছোট্ট একটি ঘরে জীবনযাপন করছি কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে। শরীরে শক্তি ও নাই যে এখন কাজ করে বাকী জীবন টা চালিয়ে নিব। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধ আহাদ আলী (৭৯)।
আহাদ আলী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওর বেষ্টিত শ্রীপুর (দ.) ইউপি’র সুলেমানপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মৃত খুশিদ আলীর ছেলে। নিজের কোনো জায়গা জমি না থাকায় একই গ্রামের মতি মিয়ার ছোট্ট একটি ঘরেই শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে জায়গা নিয়েছেন।
তিনি বলেন, সবাই কয় তুমারে একটা ঘর দিমু। তুমার ঘরে সোলার লাইট লাগাইয়া দিমু। ঈদ আইতাছে দেখা কইরো নতুন কাপড় কিনে দিমুনে। কিন্তু কেউ কিচ্ছু দেয় না। খালি আমারে মিথ্যে আশা দিয়া রাখে।
সবাই যে আশ্বাসগুলো এপর্যন্ত আমারে দিছে, তার সামান্য পরিমাণ যদি পাইতাম তাহলেও তিন বেলা ভাত শান্তিতে খাইতা পারতাম। আমি দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানাই তিনি আমাকে অন্য সবার মত আর কিছু না দিলেও একটি ঘর দিয়ে মাথা গোজার ঠাই দেন। আমি বিত্তবানসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাহায্য কামনা করি।
তানবির আহমেদসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, বৃদ্ধ আহাদ আলীর কোনো স্ত্রী-সন্তান নেই। বৃদ্ধ বয়সে একাই বসবাস করছেন ছোট একটি ঘরে। বসবাসের একদম অনুপযোগী। তাও ঘরে কোনো প্রকার লাইট নাই, ফ্যান নাই, ভালো কোনো বিছানাও নাই। সামর্থ্য না থাকায় প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই ক্রয় করা সম্ভব হয়নি তার।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো সাহায্য করার জন্য। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে সেই সাথে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে বলে দিবো উনাকে সাহায্য করার জন্য।
আপনার মন্তব্য