রায়হান উদ্দিন সুমন, বানিয়াচং

১৮ আগস্ট, ২০২১ ১৫:২৬

আজও স্বীকৃতি পাননি মাকালকান্দি গণহত্যার শহীদরা

আজ ১৮ আগস্ট মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালে এই দিনে পাক হানাদাররা শতাধিক নারী-পুরুষ হত্যা করে। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও শহীদদের পরিবারকে দেওয়া হয়নি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি।

জানা যায়,  হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজ থেকে ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট ভোরে অর্ধশতাধিক নৌকা নিয়ে রওয়ানা দেয় পাক হানাদার বাহিনী। বানিয়াচং থেকে স্থানীয় রাজাকাররা তাদের সাথে যোগ দেয়। আনুমানিক সকাল ৮ ঘটিকায় ঘাতকরা পৌছায় বানিয়াচং উপজেলার কগাপাশা ইউনিয়নের দূর্গম পল্লী এলাকা মাকালকান্দি গ্রামে। কিন্তু  গ্রামবাসী চন্ডি মন্দিরে মনসা পুজা করছিলেন। কোন কিছু বুঝার আগেই পূজায় মগ্ন নিরীহ নরনারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পরে নরপশুর দল। চালানো হয় মুহুর্মুহু গুলি।

শুধু তাই নয় কাতার করে নিরীহ গ্রামবাসীর উপর করা হয় ব্রাশফায়ার। কাতারে কাতারে দাঁড় করিয়ে শতাধিক নারী পুরুষ হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তবে ৭৮ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়। হায়েনারা মিনতী রানী পাল নামের এক পূজারীর কোল থেকে তার ৩ বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়।

যারা নৌকা দিয়ে পালাতে পেরেছিলেন তারা বেঁচে যান। ঝুপঝাঁড়ের আড়ালে লুকিয়ে থেকে প্রাণ রক্ষা করেন কেউকেউ। হানাদাররা গণহত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি। বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। আতংক কেটে যাওয়ার পর নিহতের স্বজনরা বাড়িতে আসার পূর্বেই শতাধিক লাশ নদীতে পঁচে ভেসে উঠে। ফলে পঁচা দূর্গন্ধের কারনে নিহতের স্বজনরা লাশগুলো সৎকার না করে পাশের নদীতে ভাসিয়ে দেন।

নিহতদের আত্মীয়রা আক্ষেপ করে জানান, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও শহীদ পরিবারকে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন বানিয়াচংয়ের ইউএনও মো: নুরে আলম সিদ্দিকীর প্রচেষ্টায় গ্রামে স্থাপিত হয় একটি স্মৃতিসৌধ। এ স্মৃতিসৌধে গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন প্রতি বছর শহীদদের প্রতি  শ্রদ্ধা জানান।  অন্যদিকে শহীদদের স্মরণীয় করে রাখার জন্য স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ঐতিহাসিক মাকালকান্দি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন হবিগঞ্জ-২আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ খান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, গত বছর ১৮ আগস্ট যখন মাকালকান্দি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাই, তখন সেখানকার জনসাধারণ দাবি ছিল সুন্দর একটি জায়গায় নতুন করে স্থায়ীভাবে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে দেয়ার। স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১ বছরের মধ্যেই এ প্রকল্পটি নির্মাণ কাজ শেষ দেখতে পেরেছি।  এটি নির্মাণ করার ফলে অত্র এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পুরণ হচ্ছে। স্মৃতিসৌধ এর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৩৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত