বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৬:১৯

নদীতীরের গাছ কেটে দান!

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ধলীপাটলি গ্রামের সামন দিয়ে বয়ে যাওয়া বাসিয়া নদী-তীরের সড়কে বড় দু’টি কদম গাছ বিক্রির পর গাছের গোড়ায় কাদা মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামের মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে আমির হোসেন (৩২) নদী তীরের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের গাছ দুটি কেটে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আর গাছ দু’টির গুড়ায় কাদা-মাটি দিয়ে ঢেকে রাখেছেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে, বাসিয়া নদী তীরে ধলীপাটলি গ্রাম। আর ওই গ্রামের সামনে নদী তীরে অসংখ্য গাছ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের কৃষক স্বপন মিয়ার বাড়ির সামন থেকে গত বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) একটি এবং এর পাশ্ববর্তি স্থান থেকে আরও একটি গাছ কেটে আমির হোসেন বিক্রি করেন। প্রথমদিকে কেউ কোন অভিযোগ না করলেও গাছের গোড়ায় কাদামাটি দিয়ে লুকানোর চেষ্টাকালে গ্রামের লোকজনের নজরে পড়েন তিনি।

অভিযুক্ত আমির হোসেন গাছ কাটার সত্যতা স্বীকার করলেও বিক্রির কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি এ বলেন, গাছ দু’টি তিনি এক গরিবকে দান করেছেন। কিন্তু কোন গরিব লোককে দান করেছেন তা তিনি বলতে রাজি হননি।

আর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ দেবনাথের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকারি গাছ কাটা, বিক্রি অথবা দান করার কারো এখতিয়ার নেই। যে দু’টি গাছ কাটা হয়েছে সেগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)।

ধলীপাটলি গ্রামের আরমান আলী নামের এক ব্যবসায়ীসহ একাধিক লোকজনের অভিযোগ, প্রতি বছরই আমির হোসেন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে নদী তীরের গাছ কেটে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন। এবারও তিনি প্রায় ২০হাজার টাকা মুল্যের দু’টি গাছ বিক্রি করেছেন।

আরমান আলী  বলেন, আগামি দু’একদিনের মধ্যে গাছ কাটার অভিযোগ এনে আমির হোসেন ও তার সহযোগী কদর আলীর (৪৫) বিরুদ্ধে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভূমি কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী বরাবরে স্মারকিলিপি দাখিল করবেন।

উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) মো. কামরুজ্জামান ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ বলেছেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত