বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:৫৩

বিয়ানীবাজারে বিদ্যালয়ের দপ্তরির বাল্য বিয়ে নিয়ে তোলপাড়

সিলেটের বিয়ানীবাজারে কিশোরীকে নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। ওই কিশোরী এখন দপ্তরির স্ত্রী বলে জানা গেছে।

দপ্তরি কর্তৃক বাল্যবিয়ের এমন ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবরেও লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

জানা যায়, উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের মইয়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হারুন আলী (৩৬) গত ১৬ আগস্ট কুড়ার বাজার ইউনিয়নের খশির পাটনিপাড়া এলাকার এক কিশোরীকে নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বিয়ানীবাজার থানায় মেয়ে নিঁখোজ হয়েছে মর্মে সাধারণ ডায়রী (নং ৮৯৭) করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কিছু ব্যক্তির আশ্বাসে কিশোরীকে নিয়ে বাড়ি ফিরেন দপ্তরি হারুন।

তিনি জানান, পালিয়ে যাওয়া কিশোরী এখন তার স্ত্রী। প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে তাকে তিনি বিয়ে করেছেন।

সূত্র জানায়, কুড়ার বাজার ইউনিয়নের জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং টিকা কার্ড অনুযায়ী ওই কিশোরীর জন্ম তারিখ ১৪-০২-২০০৬ইং। কিন্তু দপ্তরি হারুন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের একটি জন্ম নিবন্ধন সনদের আলোকে ওই কিশোরীকে প্রাপ্ত বয়স্ক দেখিয়ে বিয়ে করেন। সিটি কর্পোরেশনের যে জন্ম সনদ ব্যবহার করে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে, তাও সঠিক নয়।

মইয়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রমিলা বেগম জানান, দপ্তরির অনৈতিক কর্মকান্ড শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী সকল বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত নিবেন। স্কুলে বাচ্ছাদের সাথে আচরণও সন্দেহ জনক ছিল। এ নিয়ে কয়েকবার বিদ্যালয়ে শালিশও হয়েছে।
 
বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোমান মিয়া বলেন, বাল্যবিয়ের এমন ঘটনার তদন্ত চলছে। আমরা তার বেতন-ভাতা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার বিরোদ্ধে প্রশাসনিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত