২৯ নভেম্বর, ২০১৫ ১৯:৪৬
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি’র কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জেলা বিএনপি’র দায়িত্বশীলরা নির্ধারণ করায় বিবদমান একটি পক্ষ এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছরওয়ার না সিদ্দিক এ নিয়ে পক্ষ -বিপক্ষ নিয়ে মতবিরোধ পৌঁছেছে চরমে।
গত ২০ নভেম্বর স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা বিএনপি’র কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। নজমুল হোসেন পুতুলের সভাপতিত্বে এবং সিদ্দিক আহমদ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সভা পরিচালনা করেন। এ সভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না জানতে চেয়ে উপজেলা বিএনপি সহ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেনের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। ডাক যোগে নোটিশটি প্রেরণ করা হয়েছে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, কাউন্সিলের প্রায় এক বছর পর গত ২ নভেম্বর সিলেট জেলা বিএনপি বিয়ানীবাজার বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন। বিএনপি মূল নেতাকর্মীদের (সভাপতি পুতুল গ্রুপ) ঘোষিত কমিটিতে প্রাধান্য পাওয়ায় বিবদমান (সহ সভাপতি নজরুল গ্রুপ) অপর পক্ষ নাখোশ হলেও প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেননি। গত ১০ জানুয়ারি পর থেকে উপজেলা বিএনপি’র নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এম এ অদুদ রুকন আত্মগোপন করে দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য জেলা বিএনপি’র কমিটির প্রথম যুগ্ম সম্পাদককে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব দেন ১১ নভেম্বর। ১২ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের জন্য উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এম এ অদুদ রোকন লিখিতভাবে সহ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি কার্যনির্বাহী কমিটির কোন সভা হয়নি জানিয়ে উপজেলা বিএনপি’র সহ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন বলেন, বিএনপি’র গঠনতন্ত্র বিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা বিএনপি সিদ্দিক আহমদকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রকৃত পক্ষে আমি বৈধ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক-এ দাবি করে তিনি বলেন, টাকার কাছে প্রভাবিত হয়ে দায়িত্বশীলরা সংগঠনের সংবিধান বিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংগঠন পরিপন্থি কোন সিদ্ধান্ত বিএনপি’র প্রকৃত নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না। সাধারণ সম্পাদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর অবর্তমানে সংগঠনের সকল কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব আমি পালন করছি।
সংগঠনের উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক) সিদ্দিক আহমদ বলেন, পুর্ণাঙ্গ কমিটিতে আরও দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। আমাদের তিনজনের মধ্যে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব জেলা বিএনপি আমাকে দিয়েছে। তাদের নিদের্শনা মেনে কার্যনিবার্হী পরিষদের সভাসহ সংগঠনকে গতিশীল করতে আমরা একযোগে কাজ করছি। যারা সংগঠনের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছে, দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত এবং উপজেলা বিএনপি’র দায়িত্শীলরা তাই করবে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল বলেন, গঠনতন্ত্রের বিষয়টি জেলার দায়িত্বশীলরা দেখবেন। নিয়ম মেনে তারা ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বও দিয়েছেন। এ নিয়ে যারা ঘোলা পানিত মাছ শিকার করতে চায় সংগঠন ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি জানান, ২০ নভেম্বর উপজেলা বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এরকম অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আপনার মন্তব্য