৩০ নভেম্বর, ২০১৫ ২১:৩৯
বাংলাদেশে আনজুমানে আল ইসলাহর সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, আজ ইসলামের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। মুসলামানদের জঙ্গী আখ্যায়িত করে তাদের কোণঠাসা করার অপচেষ্ঠা চলছে। অথচ বাস্তবতা হল ইসল্মা জঙ্গীবাদের ধর্ম নয়। কোন ধরনের অন্যায়, অরাজকতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদকে ইসলাম প্রশ্রয় দেয় না।
সোমবার (৩০ নভেম্বর) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার সিলেট বিভাগীয় সদস্য সম্মেলনের আহবায়ক মোস্তাফা হাসান চৌধুরী গিলমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথাগুলো বলেন।
তিনি বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ হল নবী করিম (সা.), সাহাবায়ে কিরাম ও আউলিয়ায়ে কিরামের আদর্শ। যুগে যুগে উলামা-মুহাদ্দিসীন, ওলী-আউলিয়া সকলে চার মাযহাবের অনুসরণে যে আদর্শ বাস্তবায়নে জীবন চালিয়ে গেছেন। আজ মাযহাবের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালোনা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে। প্রত্যেক অঞ্চলে ইসলামের প্রকৃত আদর্শের পতাকা উড্ডীন করতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে দ্বীনের খিদমত চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আজ দেশের মুসলিম ছাত্র সমাজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তালামিয প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো বেয়াদবে ভরে যেত। মওদুদীবাদ- ওহাবিবাদ, ব্যক্তিইজম বেয়াদব তৈরি করে। এদের মোকাবেলা করার জন্য ফুলতলি তালামিয প্রতিষ্টা করেছিলেন। নবী রাসুল এবং ওলি-আওলিয়াদের সম্পর্কে যারা কুৎসা রটিয়েছিল, আল ইসলাহ্ এবং তালামিয তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম করেছিল। জাতি আজ তাদের পরিণতি দেখছে। আদর্শনীতির কারণে তালামিয আজ দেশের আদর্শ ছাত্র সংগঠন হিসেবে সবার গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ও তার ছাত্রাবাসকে মওদুদীবাদীদের অস্ত্রের গুদাম হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহা: শরীফ উদ্দিনের স্বাগত বক্তব্য ও সম্মেলন বাস্তবায়ক কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো: মুহিবুর রহমান এবং অফিস সম্পাদক আখতার হোসাইন জাহেদ এর যৌথ পরিচালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) এর সুযোগ্য উত্তরসূরী আল্লামা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ড. এম শমসের আলী, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মহাসচিব মাওলানা এ কে এম মনোওর আলী, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা কবি রুহুল আমিন খান, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এর মহাসচিব মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী, আনজুমানে আল ইসলাহর যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অধ্যক্ষ মাওলানা এম এ নুর, আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মাওলানা ছরওয়ারে জাহান, মুফতি মাওলানা আবু নছর জিহাদী, নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি এডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকিব, আল ইসলাহর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, অর্থ সম্পাদক মাওলানা আবু ছালেহ মো: কুতবুল আলম, জমিয়াতুল মুদার্রেছীন এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা হুছাইন আহমদ ভূইয়া, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা মো: শামছুল ইসলাম, সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা আবু জাফর মো: নোমান, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: শরীফ উদ্দিন, মো: আলমগীর হোসেন, মাওলানা নজমূল হুদা খাঁন, মো: আজির উদ্দিন পাশা, মাওলানা মাহমুদ হাসান চৌধুরী, নজীর আহমদ হেলাল, বেলাল আহমদ, মহানগর আল ইসলাহর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির লেকচারার নোমান আহমদ, কেন্দ্রীয় সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দুলাল আহমদ, অর্থ সম্পাদক রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান সানী।
সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সৎপুর কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মো: শফিকুর রহমান, মৌলভীবাজার টাউন সিনিয়র কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সিদ্দিকী, সৎপুর কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ছালিক আহমদ, বুরইয়া কামিল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী, সিলেট সরকারী আলীয়া মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল মুছাব্বির, সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব শেখ মখন মিয়া চেয়ারম্যান, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ মাওলানা আলাউর রহমান টিপু, কুলাউড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাওলানা ফজলুল হক খান শাহেদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলান ইমাদ উদ্দিন নাসিরী, অধ্যক্ষ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আলীম, অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তাক আহমদ, অধ্যক্ষ মাওলানা নোমান আহমদ, সিলেট মহানগর আল ইসলাহর সভাপতি আলহাজ্ব শাহজাহান মিয়া, জেলা আল ইসলাহর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শুয়াইবুর রহমানর, ঢাকা মহানগর আল ইসলাহর সহ সভাপতি মাওলানা ইকবাল আহমদ খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা আল ইসলাহর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম আলফাজ, মহানগর আল ইসলাহর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুস সবুর ও সুনামগঞ্জ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমদ।
ড. শমশের আলী বলেন, আমরা নিজেরা আজ নিজেদের কুলষিত করছি। নিজেদের দুর্গতি ও পতন ডেকে আনছি। কারণ আমারা কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণ করছি না। কুরআন ও রাসুল মানলে মানুষের চরিত্র উন্নত হয়। মানুষ বিনয়ী হয়। বিনয় ইসলামের ভূষন। ইসলামে অহংকারের স্থান নেই। সুতরাং আমাদের বিনয়ী হতে হবে। আজ পশ্চিমারা মানবতা ও উন্নত চরিত্রের কথা বলেন। তারা তো এসব ইসলাম থেকে নিয়েছে। অথচ আমরা তা থেকে দুরে সরে যাচ্ছি। আমাদের আচরণ ভালো না, তাই সমস্যা হচ্ছে। জান্নাতে যেতে হলে ঈমানের পাশাপাশি ভালো কাজ করতে হবে। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দিন, অসুস্থকে সেবা করুন, দুখীর পিঠে হাত বুলিয়ে দিন, এসবই ভালো কাজ। সব মানুষের সেবা করতে হবে, যে ধর্মেরই হোক না কেন।
মাওলানা রুহুল আমিন খান বলেন, আজ আমরা বড়ই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। দুনিয়ার দিকে দিকে মুসলমানরা বঞ্চিত, নির্যাতিত ও নিপীড়িত। এ থেকে উত্তরনের জন্য ইসলামের প্রকৃত আদর্শে আমাদের জেগে উঠতে হবে। শাহজালাল, শাহপরান, শাহ মখদুম, শাহ সুলতান ও আল্লামা ফুলতলী সহ ওলী-আউলিয়ার পথ অনুসরণে দ্বীনি আন্দোলন চালিয়ে যেথে হবে। পাল্টে দিতে যুগ-যামানা চাইনা অনেকজন, এক মানুষই আনতে পারে জাতির জাগরণ। কবিতাংশ উদ্বৃত করে তিনি বলেন, আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) এ রকম একজন মানুষ ছিলেন এবং তিনি এমন মানুষ তৈরীও করে গেছেন।
মাওলানা মোমতাজী বলেন, ইসলামকে কুলষিত করার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত শুরু হয়েছে। ইসলামকে জঙ্গীবাদের ধর্ম বলে অপপ্রচার করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্ছার হতে হবে। ইসলামের প্রকৃত আদর্শকে সমাজে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি বলেন, তালামীযে ইসলামিয়া আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ(র.) এর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের রেজামন্দির জন্য এ সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। এর প্রত্যেক কর্মীকে সুন্দর ও আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে আল্লামা ফুলতলী (র.) এর আদর্শে কাজ করতে হবে। ওরাসাতুল আম্বিয়া হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী বলেন, তালামীযে ইসলামিয়া আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহর নানান খিদমতের ধারক ও বাহক এবং আল কুরাআনের সেবক। তরুণ মনে হুব্বে রাসুল জাগ্রত করার জন্য তারা কাজ করছে। তিনি বলেন, ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা ছাত্র সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা মানবতাবোধের কথা কম বলছি, মানুষের প্রয়োজনের কথা কম বলছি। অথচ ইসলাম হলো মানবতার ধর্ম। ইসলামের সঠিক পরিচয় ও প্রকৃত আদর্শ তুলে ধরতে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগের কিছু মাধ্যম বন্ধের বিষয়ে বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম বন্ধ করা হয়েছে অথচ যখন রাসুলের ইজ্জতের উপর আঘাত আসলো তখন তা বন্ধ করা হলো না, এটি অত্যন্ত দু:খের বিষয়।
এদিকে সম্মেলন বাস্তবায়ক কমিটির সদস্য ও মহানগর সভাপতি হুমায়ুনুর রহমান লেখন এবং সিলেট পুর্ব জেলার সভাপতি মুহাম্মদ উসমান গণির যৌথ পরিচালনায় সকাল ১১টা থেকে প্রথম অধিবেশনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি জোন সিলেটের সভাপতি মোজতবা হাসান চৌধুরী নোমান, সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি মুহিবুর রহমান আখতার, হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি আব্দুল মুহিত রাসেল, মৌলভীবাজার জেলা সহ-সভাপতি খন্দকার অজিউর রহমান আসাদ, পশ্চিম জেলা সভাপতি সুলতান আহমদ, মহানগরীর সহ-সভাপতি ইনাম উদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ছালিক আহমদ ও শাবিপ্রবির সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম।
সম্মেলনে মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশন করেন কবি মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল, মাওলানা শাহিদ আহমদ, সবুজ কুড়ি শিল্পী গোষ্ঠি, রিসালাহ সাংস্কৃতিক সংসদ ও হবিবিয়া শিল্প গোষ্ঠির শিল্পীবৃন্দ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাছুম আহমদ, সহ-শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক লিয়াকত আলী তালুকদার, সহ-তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কাউছার আহমদ, কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দ আহমদ আল জামিল, খলিলুর রহমান সুমন, সুহাইল আহমদ তালুকদার, ফারুক আহমদ, শাবিপ্রবির সভাপতি জুবায়ের আহমদ রাজু, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি জায়েদ আহমদ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম সুহেল, সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন কামরান, পুর্ব জেলা সহ-সভাপতি হাফিজ মিসবাহ উদ্দিন, সাইফুর রহমান চৌধুরী শিপু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিক রুহিল শাহ, পশ্চিম জেলার সাবেক সহ-সভাপতি তৌরিছ আলী, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ তাজির, সুনামগঞ্জ জেলা সহ-সভাপতি নাজমূল হুদা মিসবাহ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও পুর্ব জেলার সাবেক সভাপতি হাফিজ সাদ উদ্দিন।
আপনার মন্তব্য