নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৫:৪০

তৃণমূলের সিদ্ধান্ত পাল্টে গেলো কেন্দ্রে: গোলাপগঞ্জে আ. লীগের প্রার্থী পাপলু

জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিনকে চুড়ান্ত করা হয়েছিলো। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এই সিদ্ধান্ত টেকেনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে।

সৈয়দ মিসবাহ বদলে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়দ পদে বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার রাতে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়। এসময় গোলাপগঞ্জের মেয়র প্রার্থী হিসেবে পাপলুর নাম ঘোষণা করা হয়।

তবে গেলাপগঞ্জে প্রার্থী পরিবর্তন করলেও জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটে তৃণমূলের সুপারিশ করা প্রার্থীকেই চুড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। জকিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দিন ও কানাইঘাটে সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক লুৎফুর রহমানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ বলেন, জকিগঞ্জে খলিল উদ্দিন, কানাইঘাটে লুৎফুর রহমান এবং গোলাপঞ্জে জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনিত করেছে আওয়ামী লীগ। তাদের চিঠি আমার হাতে রয়েছে। আমি সিলেট এসে এগুলো হস্তান্তর করবো।

গােলাপগঞ্জে তৃণমূলের বাছাই করা প্রার্থী কেন্দ্রে বদলে যাওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যাছাই বাছাই করে যাকে ভালো মনে করেছেন তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনিত করেছেন।

গত ২৯ নভেম্বর রাতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় একজন করে প্রার্থীকে বাছাই করা হয়। চূড়ান্ত হওয়া প্রার্থীদের নামের তালিকা রবিবার রাতেই কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়।

তবে জেলা আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাছাইয়ের পরই এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দয়। বিশেষত গোলাপগঞ্জ পৌরসভার টানা দুইবারের নির্বাচিত ময়ের জাকারিয়া আহমদ পাপলুর বদলে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিনকে প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন অনেকে।

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে মতবিরোধের কারনে পাপলুর উপর রুষ্ট ছিলো স্থানীয় আওয়ামী লীগ। একারনে বর্তমান মেয়র হওয়া সত্ত্বেও তার বদলে নতুন প্রার্থীকে বাছাই করে জেলা কমিটি। জেলা কমিটির পছন্দের প্রার্থী সৈয়দ মিসবাহ শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ট লোক হিসেবে পরিচিত।

তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তৃনমূলের পছন্দের প্রার্থীর বদলে পাপলুকেই প্রার্থী হিসেবে মনোনিত করে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর সিলেটের ৩ টিসহ সারাদেশে ২৩৫ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩ ডিসেম্বর।

মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাই ৫ ও ৬ ডিসেম্বর এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৩ ডিসেম্বর।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত