সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৭:৩৮

সুনামগঞ্জে জগলুলের পাশে সাংসদ শাহানা, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে। বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিলকালে তাঁর সাথে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ শাহানা রব্বানীও উপস্থিত ছিলেন। সাংসদকে নিয়ে মনোনয়ন প্রত জমা দেওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আইয়ুব বখত জগলুলের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গনিউল সালাদীন।

বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সুনামগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দুইজন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।একই দিনে ছাতক এবং জগন্নাথপুরে তিন জন করে ও দিরাই পৌর সভায় চার জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার অফিস চলাকালীন সময়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়ন পত্র জমা দেন তারা।

বিকাল ৩টার দিকে মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আইয়ুব বখত জগলুলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি শাহানা রব্বানী সহ দলীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সকালে বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদের সঙ্গে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।

সকাল ১১টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গনিউল সালাদীন সমর্থক শুভাকাক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এদিকে শামসুন্নাহার বেগম শাহানা এমপি আওয়ামীলীগ প্রার্থীর সাথে থাকায় তার বিরুদ্ধে আচরন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন সুনামগঞ্জের সতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গনিউল সালাদীন।

লিখিত অভিযোগ তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমাদেয়ার সময় অনধিক পাঁচজন লোক নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও আয়ুব বখত জগলুল সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ শামসুন্নাহার বেগম শাহানাসহ শতাধিক দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে মনোনয়ন জমা দেন। যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।

তবে এবিষয়ে পৌর মেয়র আয়ূব বখত জগলুল সাংবাদিকদের বলেন, আমি কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি। কেউ অভিযোগ করে থাকলে সেটা সত্য নয়।

সাংসদ শামসুন্নাহার বেগম শাহান বলেছেন, ‘আমি সেখানে কোনো প্রার্থীর সঙ্গে যাইনি। আমি আমার ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলাম।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমাদের কাছে প্রার্র্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ের ছবি আছে। যেসব প্রার্থী পাঁচজনের বেশি লোক নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাঁদের সতর্কীকরণ চিঠি দেওয়া হবে। এর মধ্যে বতর্মান পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুলও আছেন।

এদিকে জেলার ৪টি পৌরসভার মধ্যে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে মেয়র পদে ৩জন, কাউন্সিলার ৪৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার ৩টি ওয়ার্ডে ১৩জন মনোনয়ম দাখিল করেছেন। জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র ৩জন, কাউন্সিলার ৩৪জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার ৩টি ওয়ার্ডে ১০জন মনোনয়ম দাখিল করেন। দিরাই পৌরসভায় মেয়র ৪জন, কাউন্সিলার ৩৯জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার ৩টি ওয়ার্ডে ১০ জন মনোনয়ম দাখিল করেন। ছাতক পৌরসভায় মেয়র ৩জন, কাউন্সিলার ৩১ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার ৩টি ওয়ার্ডে ১১জন মনোনয়ম দাখিল করেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত