০৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২০:৫৬
বিশ্বনাথে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় ভাইস-চেয়ারম্যান কর্তৃক উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর হামলার ঘটনায় পরবর্তি করণীয় নিয়ে উপজেলাবাসীর সঙ্গে মতবিনিয়ময় সভা করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা সুহেল আহমদ চৌধুরী।
উপজেলার সর্বদলীয় ও সর্বস্থরের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ঘন্টাব্যাপী চলে এ মতবিনিময় সভা। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর হামলার ঘটনার পর জানাইয়া গ্রামবাসীকে নিয়ে কটুক্তির জন্য মতবিনিময় সভা থেকে দুঃখ প্রকাশও করা হয়।
সভায় প্রশাসনের উর্ধতন কর্মর্কাদের বরাবরে স্মারকলিপি দেওয়া ও কমিটি গঠনের সিদ্দান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া আগামী ৭দিনের মধ্যে বিএনপি নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ নূর উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচী ঘোষনা করার সিদ্দান্তও নেওয়া হয়।
সভায় বক্তারা উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ নূর উদ্দিনকে উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী পরিষদ থেকে বহিঃস্কার ও গ্রেফতার দাবি করে বলেন, পরিষদে সমন্বয় সভা চলাকালে উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়েছে বিশ্বনাথের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এজন ব্যক্তির কারণে পুরো উপজেলা নষ্ট হতে পারেনা। ফলে আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন উপজেলাবাসি। সমাজ সুন্দর করতে সামাজিক ব্যবস্থা অনেক ভাল। সামাজিকভাবে অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রাক্তন শিক্ষক আলহাজ্ব আব্দুল বারীর সভাপতিতে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে উপজেলাবাসীর কাছে ন্যায় বিচার চেয়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী। আবেগ জড়িত কন্ঠে এসময় তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে আপনারা আমাকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে রক্তঋণে আবদ্ব করেছেন। তাই প্রয়োজন হলে আমি আমার জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। গত ২৬ নভেম্বর উপজেলা পরিষদের সভা চলাকালীন সময়ে পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমার উপর ন্যাক্কারজনক হামলা করে বিশ্বনাথবাসীর হৃদয়ে আঘাত করেছে। আমি এই সব সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিচার আমার উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে ও প্রশাসনের কাছে রাখলাম।
মাসিক বিশ্বনাথ ডাইজেস্ট সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ফয়জুল ইসলাম জয় ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোতাহার আলীর যৌথ উপস্থাপনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া, তাজপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইমরান রাব্বানী, বিশ্বনাথের ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মধ্যে জালাল উদ্দিন, লিলু মিয়া, আব্বাস আলী, সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল আহমদ মতছিন, আবারক আলী, মশররফ হোসেন ও রজব আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আবদুল হাই, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহবায়ক সৈয়দ রাজ্জাক আলী, বৃক্ষপ্রেমিক আব্দুল গফ্ফার উমরা মিয়া, বিশ্বনাথ পুরান বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মনির মিয়া, বিশিষ্ট মুরব্বী মাস্টার আবদুল হেকিম, তকবির মিয়া চৌধুরী, জামাল উদ্দিন, সিলেট জেলা যুবলীগ নেতা শেখ আজাদ, সিতার মিয়া, উপজেলা জাপার যুগ্ম-আহবায়ক রফিকুল আলম লালু, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান নূর আসাদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মতিউর রহমান সুমন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ.লীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ফারুক মিয়া, আ.লীগ নেতা বিমল চন্দ্র সরকার, জেলা বিএনপি নেতা মঈনুল হক, এলাকার মুরব্বী মনু মিয়া, সিরাজ খাঁন, আখলিছ আলী সরকার, আবদুল মন্নান, হরুপ খান, আরশ আলী, আবদুর রব, শেখ নূর মিয়া, মখলিছুর রহমান, চমক আলী, চন্দন মিয়া,তালেব আলী, ছুটু মিয়া, ওয়ারিছ খান, আবুল হোসেন মেম্বার, এখলাছুর রহমান খান তসিল, আশিক মিয়া, মুল্লিক চৌধুরী, ইজার আলী, মাসুক মিয়া, তোরাব আলী, শেখ মনির মিয়া, আবারক আলী মেম্বার, হাফিজ আরব খান, হেলাল আহমদ মেম্বার, গোলাম হোসেন মেম্বার, বসারত আলী, আয়না মিয়া, চেরাগ আলী মেম্বার, কলমদর আলী, মখন মিয়া, আবদুস সুফান, জয়নাল আবেদিন প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য