০৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২২ ২৩:২৬
প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে দেশের মানুষ।গত কয়েকদিন থেকে তীব্র বাতাসে শীতের মাত্রা বেড়েই চলছে। এর ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের সীমান্তঘেঁষা চা বাগান অধ্যুষিত জুড়ী উপজেলায় অনেক ঠাণ্ডা। প্রচণ্ড শীত থেকে রক্ষা করতে কম্বল, লেপের প্রয়োজন। যা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। একদিকে চা বাগান অন্যদিকে হাওরের পাশ ঘেঁষা এলাকা হওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা বেশি। গরীব, দিনমজুর, চা শ্রমিকরা কম্বল কিনে শীত থেকে রক্ষা পেতে সক্ষমতা কম। সরকার থেকে যে পরিমাণ কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।
অন্যান্য বছর অনেক সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন, সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে অনেকে শীতার্তদের পাশে দাঁড়ালেও এ বছর তা একেবারেই কম। করোনা মহামারির কারণে মানুষের অভাব বাড়ার কারণে এই অবস্থা বলে অনেকে মনে করেন।
রতনা চা বাগানের শ্রমিক অহিল্যা পানিকা, রিকমুন বলেন, এখন অনেক শীত। আমাদের পরিবারের সদস্যও অনেক বেশি। কিন্তু কষ্ট করে রাতে ঘুমাই। কেউ কম্বল দেওয়া তো দূরের কথা খবরও নেয় না।
৫৫ বছর বয়সী মনতৈলের বাসিন্দা রিকশাচালক বলেন, আমি ৫ সন্তান নিয়ে রিক্সা চালিয়ে কোনরকম ভাবে আছি। এ বছর অনেক শীত। কেউ কম্বল, লেপ দিলে অনেক কামে (উপকারে) আসত।
উপজেলার বৃহত্তম সামাজিক সংগঠন জাগরণ সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি হুমায়ুন রশীদ রাজি বলেন, আমরা বিগত কয়েক বছর থেকে শীত আসলে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রমী কিছু কাজ করার পরিকল্পনা থাকার কারণে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে পারবো না।
পশ্চিম জুড়ী ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, আমার ওয়ার্ডে কম্বল পাওয়ার মত ৩-৪ শত গরীব, দিনমজুর আছেন কিন্তু সরকারি বরাদ্দে মাত্র ১৫ টি কম্বল পেয়েছি।
সাগরনাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর নূর জানান, উপজেলা থেকে ২০০ কম্বল বরাদ্দ এসেছে। আমার ইউনিয়নে চা শ্রমিকসহ দিনমজুর, কৃষক পরিবারের সংখ্যা অনেক। সরকার থেকে যে পরিমাণ কম্বল দেওয়া হয়েছে তা বিতরণ করে দিয়েছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমার ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দে ৩০০ কম্বল দেওয়া হয়েছে অথচ ১৫০০-২০০০ কম্বল দিলে দিনমজুর, চা শ্রমিকসহ গরীবদের মধ্যে বণ্টন করা যেত। সরকারি কম্বলের পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগত ভাবে কিছু মানুষকে কম্বল কিনে দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা বলেন, সরকার থেকে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।
আপনার মন্তব্য