১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:০৩
বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ করেই হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অন্তত ১১ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুুত্রে জানা গেছে।
এই প্রাদুর্ভাব রুুখতে স্বাস্থ্য বিভাগ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, লালচে দানা এবং কাশি ও চোখের সমস্যার উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক হালকা জ্বর হলেই আতঙ্কিত হয়ে শিশুদের নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা অনেক অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামীণ এলাকায় এখনও হাম নিয়ে নানা কুসংস্কার প্রচলিত আছে। অনেক সময় শিশুরা হামে আক্রান্ত হলেও শুরুতে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে কবিরাজি বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেওয়া হয়। ফলে অনেক শিশু নিউমোনিয়া বা পুষ্টিহীনতার মতো জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছে চিকিৎসা নিতে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শামীমা আক্তার জানান, গত ২ তারিখ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে এই পর্যন্ত ১১ জন হামের রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ৪ জন রোগী আমাদের ওখানে চিকিৎসা নিয়ে সুুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৩ জন শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তাদেরকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। তবে আসলেই হাম রোগ কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সবার স্যাম্পল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইন মজুদ আছে। আমরা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি যাতে কোনো এলাকায় প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত যেন রিপোর্ট করা হয়।
তিনি বলেন, যাদের বয়স ৯ মাস এবং ১৫ মাস পূর্ণ হয়েছে কিন্তু টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কোনো শিশুর হাম হলে তাকে অবশ্যই আলাদা রাখতে হবে। তাকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার, ভিটামিন-এ এবং বুকের দুধ (শিশুদের ক্ষেত্রে) খাওয়াতে হবে। জ্বরের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করাতে হবে। সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হলো সময়মতো এমআর টিকা দেওয়া। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা।
আপনার মন্তব্য