নিজস্ব প্রতিবিদক

২২ এপ্রিল, ২০২২ ১৭:১৮

সিলেটে অনলাইনে জমেছে ঈদ বাজার

সিলেটের শিবগঞ্জ এলাকার আমিনা খুশি। অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গ্ল্যামডাস্ট’ এর পরিচালক তিনি। ইফতারের পর গ্ল্যামডাস্ট নামক ফেসবুক গ্রুপ থেকে লাইভে এসে নারীদের জন্য বাহারি ডিজাইনের কামিজ সেলোয়ারসহ বিভিন্ন পোশাক ও কসমেটিকস প্রদর্শন করেন তিনি। লাইভ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পণ্য নিয়ে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের মধ্যে রীতিমত কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। তাই বিক্রেতা আমিনা খুশিকে তাই লাইভে বলতে হয়, যে আপু আগে কমেন্ট করবেন সে আপুই ড্রেস পাবেন। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই ঘন্টাখানেক লাইভে বিভিন্ন পোশাক বিক্রি করেন আমিনা খুশি।

আমিনা খুশির মতো সিলেটের অনেক অনলাইন বিক্রেতাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্রেতারাও অনলাইনে কিনে নিচ্ছেন কাপড়, কসমেটিকস ও গহনা। করোনাকালের মত এবারের ঈদে ৩/৪ গুণ বেশি বেচাকেনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সিলেটের বিভিন্ন অনলাইন ব্যবসায়ীরা।

‘গ্ল্যামডাস্ট’ এর পরিচালক আমিনা খুশি বলেন, শবেবরাত থেকে ঈদের পোশাক বিক্রি করা শুরু করেছে। অনেক ভাল বিক্রি হচ্ছে। অনেক পাকিস্তানি কালেকশন ছিল। পাশাপাশি দেশীয় কিছু বুটিক্সের ড্রেস ছিল। বেশি বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি ছাদাবহার, অরগেঞ্জা, আঘানূর। গরম হওয়াতে এবার কটন ড্রেসও খুব ভাল সেইল হচ্ছে। আমাদের ব্যাগগুলো ইমপোর্ট করা তাই ব্যাগগুলোও ভাল সেইল হচ্ছে। পাশাপাশি কসমেটিকও সেইল হচ্ছে।

তিনি বলেন, চাঁদরাত পর্যন্ত পণ্য বিক্রি করবো। প্রোডাক্টের ব্যাপারে আজ ৭ বছরে ১টা নেগেটিভ রিভিউ পাইনি। এবারও পণ্য হাতে পাওয়ার পর অনেকেই খুশি হয়ে কল দিয়েছেন। এটাই আমার বড় অর্জন। গ্ল্যামডাস্টের উপর এভাবে সবাই ভরসা রাখলে সামনে কাজ করতে আরও স্পৃহা পাবো।

গত দুই বছর করোনাকালে বেশিরভাগ শপিংমল-ফ্যাশন হাউসও বন্ধ থাকায় ঘরবন্দি ঈদে মানুষজন ঝুঁকেছিলেন অনলাইন কেনাকাটায়। সেই রেশ এখনো রয়ে গেছে। তাই এবার মার্কেট শপিংমল খোলার পরও অনলাইনে কেনাকাটায় মানুষজনের চাহিদা কমেনি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিলেটে অনলাইনে চলছে জমজমাট কেনাকাটা।

সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও রয়েছে বেশ কয়েকটি অনলাইন শপ। যার মধ্যে অনেকের বিভিন্ন শপিংমলে শোরুম আছে। চাহিদার কারণে শপিংমলের শোরুমের ব্যবসায়ীরা ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেইজ ও গ্রুপ খুলে পণ্য বিক্রি করছেন। মূলত শাড়ি, রেডি-আনরেডি সালোয়ার কামিজ, কুর্তি, শার্ট, কসমেটিকস, গহনা ইত্যাদি অনলাইনে বিক্রি করেন তারা। বেশিরভাগ বিক্রেতারাই একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাদের ফেসবুক পেইজ বা গ্রুপে লাইভে এসে পণ্য বিক্রি করেন। অনেকেই আবার পণ্যের ছবি ও দাম ফেসবুক পেইজ বা গ্রুপে দিয়ে ব্যবসা করছেন অনেকে।  

কায়নাত বিডি ফেসবুক গ্রুপ থেকে নারীদের বিভিন্ন দেশী ও বিদেশি পণ্য যেমন গহনা, শাড়ি, সেলোয়ার-কামিজ ও প্রসাধনী বিক্রি করেন শেখ আফসানা রিয়া। রোজার ১৫দিন আগে থেকে বিক্রি শুরু করেন রিয়া। এখনো বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন। শেখ আফসানা রিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে অনেক ভাল বিক্রি হচ্ছে। অনেক মানুষই এখন অনলাইনমুখী হচ্ছে। প্রথমে অনেক ক্রেতা এমন পেয়েছি যারা তাদের স্বামী বা পিতা মাতাকে অবগত না করে অনলাইন থেকে পণ্য ক্রয় করতেন। কারণ তাদের পরিবারের সদস্যরা অনলাইন থেকে পণ্য কেনা বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু এখন এমন হচ্ছে না। অনলাইন শপে মানুষজনের বিশ্বাস বেড়েছে। অনলাইন ক্রেতা বিক্রেতারা উভয়েই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আপডেট হচ্ছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত