১২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৯:৫৩
মৌলভীবাজার- ২ আসনের সাংস আব্দুল মতিনের সাথে যোগাযোগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের বিলের পার ও হাজিপুর গ্রামের নতুন ৩১০ গ্রাহক।
এ জন্য সাংসদের আগমন উপলক্ষে বিলের পার গ্রামে প্রবেশ পথে একটি তোরণ ও উদ্বোধন স্থলে একটি প্যান্ডেল নির্মাণ সকল আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু অবশেষে সাংসদ রহস্যজনক কারণে বিলের পার গ্রামের ৩১০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধন না করায় গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বঞ্চিত হলেন। গত ১১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় এ ঘটনাটি ঘটে।
হাজিপুরের বিলের পার গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারী বরাদ্দে হাজিপুর ইউনিয়নের বিলের পার গ্রামে নতুন ৩০০ জনকে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা হয়েছিল। গত তিন বছরে খুঁটি স্থাপন করে তার টানা দিয়ে সকল প্রকার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। মৌলভীবাজার-২ আসনের সাংসদ আব্দুল মতিনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তাঁর দেওয়া তারিখ ১১ ডিসেম্বর বিলের পার গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে হিসাবে বিলের পারের গ্রামবাসীরা সাংসদ আব্দুল মতিনকে সম্মান জানাতে গ্রামের প্রবেশ পথে একটি তোরণ ও অনুষ্ঠান স্থলের জন্য একটি প্যান্ডেলও নির্মাণ করেছিল।
আশ্চর্যজনকভাবে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনালের ডিজিএম প্রকৌশলী এম হাসনাত হাসান বিলের পার গ্রামবাসীকে মুঠোফোনে জানান, সাংসদ শুক্রবার এ গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করবেন না। ডিজিএমের ফোন পেয়ে বিলের পার গ্রামবাসী তোরণে ও প্যান্ডেলে ব্যানার লাগানো হয়নি। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় সাংসদ আব্দুল মতিন হাজিপুর ইউনিয়নের বড় খাঁরপার গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ গ্রাম ও হাজীপুর গ্রামের নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করলেও বিলের পার গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করেননি। ফলে এই গ্রামের ৩ শতাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বিলের পার গ্রামবাসীর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে কয়েক দফা সাংসদ আব্দুল মতিনকে না পেয়ে তাঁর মুঠোফোনে (০১৭১৬৬৮৭০০৬) কয়েক দফা চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
তবে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী শিবু লাল বসু বিলের পার গ্রামের নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধনের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাংসদ আব্দুল মতিনই সব বলতে পারবেন। জিএম শিবু লাল বসু আরও বলেন, হয়তো সাংসদের কর্ম ব্যস্ততায় তিনি বিলের পার গ্রামের আনুষ্ঠানিকতা করতে পারেননি। তবে শীগগরই এ দুটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন হয়ে যাবে।
আপনার মন্তব্য