০৫ মে, ২০২২ ২১:৩৫
বছরে একটি ফসল হতো জমিতে। সেটা আমন। এছাড়া অন্য মৌসুমে জমি খালি পড়ে থাকতো। এই জমিতে চাষের জন্য কৃষি বিভাগের উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। এরপর কৃষকদের কৃষি উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে সমলয় পদ্ধতিতে বোরোর চাষ করা হয়। চাষের পর শুরুর দিকে দেখা দেয় পানি সংকট। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সেই সংকট উত্তরণ করেন কৃষকরা। সেচ সংকট কাটিয়ে প্রথম বারের মতো সমলয় পদ্ধতির চাষে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এতে কৃষকসহ সংশ্লিষ্টদের মুখে হাসি ফুটেছে।
গত বুধবার (৪ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের গজবাগ গ্রামের এই মাঠে সমলয় পদ্ধতিতে আবাদ করা বোরো ধান কাটার উদ্বোধন করা হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার যন্ত্রের সাহায্য এই ধান কর্তনের উদ্বোধন করেছেন।
এ উপলক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে গজবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী।
দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক আপ্তার আহমদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপপরিচালক কাজী লুৎফুল বারী, বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ, শিক্ষক আপ্তাব আলী, সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম, কৃষক লালই মিয়া প্রমুখ।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে গজবাগ গ্রামের ৫০ একর জমিতে একসাথে একই সময়ে চাষ ও একই সময়ে ফসল কাটার সমলয় পদ্ধতিতে বোরো চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কৃষকরাও নতুন এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে এগিয়ে আসেন। এই প্রকল্পে যুক্ত হন ৬৬ জন কৃষক। এই পদ্ধতিতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের হালিচারা ও সার প্রদান করে। গত ৩১ জানুয়ারি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের উন্নয়ন সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় কৃষকের মাঝে একটি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার বিতরণ এবং রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে বোরো আবাদ করা হয়। এ প্রকল্পে কৃষি বিভাগের ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়।
গজবাগ গ্রামের কৃষক আমির আলী বলেন, ‘প্রায় ১ একর জমিতে বোরো আবাদ করি সমলয় পদ্ধতিতে। ফলন ভালো হয়েছে। বোরো আবাদের পর পরই পানির সংকট দেখা দেয়। কৃষি বিভাগ অনেক কষ্ট করে পাহাড়ি এলাকা থেকে পানি এনে জমিতে দিয়েছে। পানির সংকট না থাকলে সমলয় পদ্ধতিতে ভালো ধান হবে। তারপরও যা হয়েছে আমরা খুশি। এই জমিতে আমরা এক ফসল চাষ করতাম। কৃষি বিভাগের কারণে আমরা তিন ফসল চাষ করবো।’
বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার বলেন, ‘৫০ একরে বোরো ব্লক প্রদর্শনীতে প্রথমে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে রোপন হয়েছিল। চৈত্রের প্রথম দিকে খালের পানি কমে যাওয়ায় সেচের কিছুটা অসুবিধা হয়েছিল। ৫০ একরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ধানে ১৩২ মেট্রিক টন। ধান কাটা পুরোপুরি শেষ হয়নি। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। খাল খনন করে এই বছর প্রথম এখানে বোরো ফসল হয়েছে। আগে এখানে একটি ফসল হতো আমন। এবার প্রথম বোরো ফসল হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বোরোর পর আউশ চাষ করা হবে। আমার ৬৬ জন কৃষককে প্রদর্শনী দিয়েছিলাম। তাদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আমরা বিনামূল্যে আউশের বীজ ও সার দিয়েছি। যাতে বোরো কর্তনের পর পরই জমি পতিত না রেখে তারা আউশ আবাদ করতে পারেন। কৃষি বিভাগ এক ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমি রুপান্তর লক্ষ্যে কাজ করছে। এলাকার কৃষকরাও আমাদের এ কাজে সহযোগিতা করছেন।’
আপনার মন্তব্য