নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০১:৪৩

তর্জন-গর্জনে কাজ হয়নি, মাঠ ছাড়েননি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা

অনেক তর্জন গর্জন, বহিস্কারের হুমকি, আপােষ-রফার অনেক চেষ্টা- কিন্তু কিছুতেই কাজ হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি সিলেটের ৩ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কেউই।

রবিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি।

ফলে ৩ টি পৌরসভায়ই ঘরের শক্রু বিভীষণদের মাঠে রেখেই ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলকে। আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী আধীক্য প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের জন্য শাপেবর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিপাকে পড়তে পারেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

রবিবার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে সিলেট জেলার মধ্যে কেবল কানাইঘাটের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সুলতান আহমদ মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া শরীফ আহমদ ও রুহেল আহমদ নামে এ পৌরসভার দু’জন কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া শেষ দিনে আদালতের রায়ে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্র ফিরে পেয়েছেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী। রবিবার দুপুরে তিনি মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়া সংক্রান্ত আদালতের রায়ের কপি স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, এবার দলীয় প্রতীেক নির্বাচন হওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা তেমন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারবে না। কারণ নৌকা প্রতীক থাকবে দলের মনোনীত প্রার্থীর প্রতীক।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারাদেশের সাথে সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখনো প্রতীক বরাদ্ধ না হলেও প্রচার প্রাচরণা চালিয়ে যাচ্ছেন এ তিন পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছেন তারা।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে। দলের এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল জব্বার ও আমিনুল ইসলাম রাবেল।

এ ব্যাপারে সিরাজুল জব্বার বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। পরে কেন্দ্রে গিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়েই আমি প্রার্থী হয়েছি।

এই পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া শাহীন। এছাড়া খেলাফত মজলিস নেতা আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আমিনুর রহমান লিপন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সুহেদ আহমদ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী খলিল উদ্দিন ও বিএনপির মনোনিত প্রার্থী বদরুল হক। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ। এই পৌরসভায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান মেয়র আবদুল মালেক। এছাড়া স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ হিফজুর রহমান ও জাফরুল ইসলাম।

কানাইঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমান এবং বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহিম ভরসা। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন নিজাম উদ্দিন। এ পৌরসভায় আরো মেয়র প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী বাবুল আহমদ, জাসদের প্রার্থী তাজ উদ্দিন। এছাড়া আলী উল্লাহ ও সিরাজুল ইসলাম এ পৌরসভায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হয়েছেন।

সিলেট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে রবিবার কানাইঘাটের একজন মেয়র প্রার্থী ও দু’জন কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত