রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর

০৬ জুলাই, ২০২২ ২২:১৮

জগন্নাথপুর বন্যার প্রভাবে ক্রেতা শূন্য গরুর বাজার

কোরবানির ঈদ আগামী ১০ জুলাই দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা।পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পশুর ব্যাপারী ও খামারিরা। ব্যাপারীরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গৃহস্থ ও খামারিদের কাছ থেকে গরু কিনছেন। অনেক গৃহস্থ ও খামারি সরাসরি হাটে নিয়ে গরু বিক্রির প্রস্তুতিও নিয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো জমে উঠেনি গরু বাজার।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার বুধবার (৬ জুলাই) ঘুরে দেখা গেছে, এবার উপজেলা ছোট বড় কয়েকটি গরু বাজারে বন্যার কারনে ক্রেতা শৃন্য। বিশেষ করে উপজেলা জুড়ে বন্যার পানি থাকায় সকলেই বন্যা মোকাবেলায় ব্যস্ত থাকায় কুরবানী দেওয়া নিয়ে চিন্তার মধ্যে আছেন। খামারি-ব্যাপারীরা বলছেন, পশুর এবার বেশি পাবেন কিন্ত ক্রেতা পাবেন না।  ছয় মাস আগে গরুর দাম যেটা ছিল এখন প্রায় দ্বিগুণ কমেছে। সকল খামারিদের এবার লোকসান দিতে হবে। সারা বছর পশুর জন্য যে টাকা খরচ করেছেন তা এবার পাবে না তো আরো কমদামে পশু বিক্রয় করতে হবে। এখনো অনেক গরুর বাজারে পানি থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা পশু নিয়ে আসতে পারছেন না আবার ক্রেতাগন দেখে শুনে পশু ক্রয় করতে পারছেন না।

পশু ক্রেতা হেলাল জানান, এবারের ঈদে বন্যার জন্য পশু কম আসতেছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবার আর গরুর বাজার ভরপুর নয়। অভাবে পড়ে যারা গরু নিয়ে আসছে তাদেরকে দেখা যাচ্ছে। গরু ব্যবসায়ীদের এবার গরু আমদানি করতে দেখেন নাই অন্য বছর যেভাবে বিদেশী গরু আসতো এবার এ গরু গুলো দেখা যাচ্ছেনা। অনেক গরুর বাজারে বন্যার পানি থাকায় গরু কম দেখা যাচ্ছে।

গরু ব্যবসায়ী দোলাল জানান, কয়েক মাস ধরে তারা এলাকায় ঘুরে ঘুরে গরু কিনছেন। ঈদের আগে তিন-চার মাস খাইয়ে হৃষ্টপুষ্ট করে বিক্রি করবেন লাভে। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে বন্যা। বন্যার কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ তারা। দেশে গরু আছে, গরুর সংকট নেই। যে গরু আছে, তা দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব। বন্যায় কপাল নষ্ট করেছে তাদের।

এ ব্যাপারে রানীগঞ্জ বাজারের আশিলে দায়িত্বে থাকা দিদার আহমদ সুমন জানান, গতবছর এ সময়ে প্রায়  দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা কলেকশন আসতো এবার মাত্র ২০ হাজার কালেকশন হয়েছে। বিশেষ করে গরু বাজারে থাকলেও কাষ্টমার কম। এ জন্য বন্যাকে দায়ি করে বলেন, বন্যা না হলে উপজেলার সব থেকে বড় আমাদের বাজারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পশু আসতো এবার আর আসবে না।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমরা সব সময় কৃষকের পাশে আছি। সব ধরনের  নিরাপত্তা  রাখার দায়িত্ব আমার।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত