নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৩:৪৬

সিলেটে হঠাৎ বন্ধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ, বিপাকে ৩ হাজার আবেদনকারী

সিলেটে হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আবাসিক পর্যায়ে গ্যাস সংযোগ। ইতোমধ্যে যারা গ্যাস সংযোগের আবেদন করেছেন তাদেরও সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে না। ফলে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা।

সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন, দেশে গ্যাসের মজুদ কমে আসায় আবাসিক পর্যায়ে আর গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হবে না।


সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় জালালাবাদ গ্যাসের সিলেট ও মৌলভীবাজারের ৪টি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এর অধীনে যেসব কাজের টেন্ডার হয়েছিল তাও বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সিলেটের বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় সম্প্রতি গ্যাস সংযোগের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত বছর এসব এলাকায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাসের ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা হয়।

জালালাবাদ গ্যাস কন্ট্রাক্টরস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতারা দাবি করেছেন, সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে হঠাৎ করে আবাসিক গ্যাস সংযোগের আবেদন গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

জালালাবাদ গ্যাস টিএন্ডটি সিস্টেম লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস ন্যাশনাল গ্রিড লাইনে যুক্ত হচ্ছে। আর সিলেটে প্রতিদিন সরবরাহ হচ্ছে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এরমধ্যে আবাসিক খাতে মাত্র ৭ ভাগ, বাকিটুকু ব্যবহৃত হচ্ছে বাণিজ্যিক খাতে। সিলেটে আবাসিক খাতে গ্যাসর গ্রাহক রয়েছেন ৭০ হাজার।

জানা যায়, ২০১১ সালের ৩ জানুয়ারি এক আদেশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জালালাবাদ গ্যাস টিএন্ডডি সিস্টেম লিমিটেড অধিক্ষেত্রাধীন এলাকা ব্যতীত দেশের সকল অঞ্চলে সংযোগ ও লোড বৃদ্ধির আবেদন নির্দিষ্ট কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর সারাদেশে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও সিলেটে চালু ছিল।

ওই বছরের ৮ জুলাই পুণরায় একটি নির্দেশনা দিয়ে জালালাবাদ গ্যাস লিমিটেডকে একইভাবে সারাদেশের সাথে নতুন সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত কমিটির অনুমোদন নেয়ার অফিস আদেশ জারি করা হয়।
ঐ চিঠির প্রেক্ষিতে যারা ইতোমধ্যে নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন তাদের সংযোগ প্রদানও বন্ধ করে দিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস কতৃপক্ষ। এতে করে নতুন সংযোগ পাওয়ার জন্য আবেদন করা প্রায় ৩ হাজার গ্রাহকের সংযোগ প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে, প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক স্থাপনের টেন্ডর আহ্বান করে সিডিউল গ্রহণ করা হয়। তবে দড়ে মাস অতিবাহিত হলেও এখনো ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হচ্ছে না।

রাজনগর, বিশ্বনাথ রশিদপুরম ওসমানীনগর তাজপুর ও ফেঞ্চুগঞ্জে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক স্থাপনের কথা ছিল।

গ্যাস সরবরাহের জন্য রাজনগরের ২৫ কিলোমিটার, রশিদপুরের ১৫ কিলোমিটার, ওসমানীনগরের তাজপুরে ২২ কিলোমিটার ফেঞ্চুগঞ্জে বিয়ালীবাজার থেকে ভাটেরা এবং কুলাউড়া টু ব্রাহ্মণবাজার পর্যন্ত গ্যাসের ট্রান্সমিশন লাইন ্স্থাপন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে শত কোটি টাকা। সম্প্রতি ডিস্ট্রিবিউশন লাইন স্থাপন কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হলেও তা মৌখিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

জালালাবাদ গ্যাস কন্ট্রাক্টরস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি মোজাম্মেল হক জিল্লু জানান- বর্তমানে নতুন সংযোগের আবেদন নেয়া একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

এ বাপারে জালালাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল ইসলাম খানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গত মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিক সম্মেলনে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশে যে পরিমাণ গ্যাসের মজুদ রয়েছে তা দিয়ে বড় জোর ১৩/১৪ বছর চলতে পারে। আবাসিক খাতে গ্যাসের ব্যবহার মানে গ্যাসের অপচয়। তাই আমরা আবাসিক খাতে আর গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত