নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২২:৫০

সিলেটটুডে’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি সুধীজনের

সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করার দাবি জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, "এখানে সরকারের সাথে সম্পৃক্ত অনেকেই উপস্থিত আছেন, তাদের বলতে চাই আপনারা আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের ব্যাপারে উদ্যোগী হন"।

এটি একটি 'কালো আইন' উল্লেখ্য করে ফারুক মাহমুদ বলেন, "এই আইনের ফলে অনলাইনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। একটি প্রগতিশীল উদারমনস্ক দেশে এমন আইন থাকা উচিত নয়"

শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে গিয়ে ফারুক মাহমুদের বক্তব্য সমর্থন করে  জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, "একটি গণতান্ত্রিক দেশে ৫৭ ধারার মত আইন থাকা একদমই মানা যায় না"।

সিলেটের খ্যাতনামা এই আইনজীবী বলেন, "এই আইনের মরপ্যাচে ফেলে যোকোন নিরপরাধ মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয়া সম্ভব"। এই আইনে অপব্যবহারের সুযোগ অনেক বেশি উল্লেখ্য করে দ্রুত এটি বাতিল করার দাবি জানান তিনি।

উপস্থিত প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মীরাও এই আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

কী আছে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায়

(১ উপ-ধারা): ‘কোনো ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতি ভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ৷'

(২): ‘কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১)-এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং ন্যূনতম সাত বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷'

আপনার মন্তব্য

আলোচিত