সিলেটটুডে ডেস্ক:

২৫ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০৮

শাবিতে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) বাংলা বিভাগের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে তৃতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষার তিনটি কোর্সের অতিরিক্ত উত্তরপত্রে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

এ অভিযোগে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ বলেন, 'এটা পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।'

এদিকে এ ঘটনায় ওই বিভাগের স্নাতকোত্তরের এক শিক্ষার্থী হাবিবুল হাসানকে শোকজ করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর দাবি, ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই তাকে শোকজ করা হয়েছে।

বাংলা বিভাগের ওই সেমিস্টারের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলামের কাছে সোমবার দুপুরে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।

তবে গত ১৯ সেপ্টম্বর এ বিষয়ে বলেছিলেন, 'প্রথম পরীক্ষকের কাছে পরীক্ষার উত্তরপত্র দেখার সময় অসংগতি মনে হয়। অতিরিক্ত উত্তরপত্র দেখে তার মনে হয়েছিল- এই খাতা আগে সংগ্রহ করে লিখে নিয়ে এসে যুক্ত করা হয়েছে। পরে তিনি পরীক্ষা কমিটিকে বিষয়টি জানালে প্রাথমিকভাবে তারা যাচাই-বাচাই করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরকে জানান।’

অন্যদিকে ঘটনাটি জানতে ওই বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক হাবিবুল হাসান পরীক্ষা কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন। পরে পরীক্ষা সংক্রান্ত গোপন ও তদন্তাধীন বিষয়ে তৃতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা কমিটির সভাপতিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন- এমন অভিযোগ উল্লেখ করে তাকে কারণ দর্শানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে তাকে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে সম্পৃক্ত থাকা কেন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না- সে বিষয়ে লিখিত বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা বলেন, 'শিক্ষার্থী হিসেবে সে যা করেছে তাই তাকে শোকজ করা হয়েছে। বিভাগের সব শিক্ষক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।' ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যেখানে তদন্ত কমিটি হয়েছে, সেখানে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হবে কেন? অভিযোগ পাওয়ার পর পরই বিভাগ যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান তিনি।'

বিষয়টি জানতে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিক হাবিবুল হাসান বলেন, 'এই ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না। নিউজের স্বার্থে ঘটনা জানার জন্য এক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলি। কিন্তু নিউজ করার মতো সুস্পষ্ট ধারণা না পাওয়ায় আমি কোনো নিউজ করিনি। পরে দেখলাম, বিভাগ থেকে আমাকে শোকজ করা হয়েছে।'

আপনার মন্তব্য

আলোচিত