২৫ অক্টোবর, ২০২২ ২৩:৪৮
মৌলভীবাজারের বড়লেখার ঈদগাহবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি কুচক্রীমহলের ইন্দনে প্রতিষ্ঠাকালীন দাতা সদস্যদের অবমূল্যায়ন করার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই গেইট দাতাকে বিদ্যালয়ের দাতা হিসেবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। বর্তমানে সেটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী, অর্নার বোর্ডে ক্রম অনুযায়ী নামের সারিতে প্রতিষ্ঠাতাদের নাম থাকার কথা থাকলেও সেটি রদবদল করা হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল নারী শিক্ষার বিস্তারে অবদান রাখা এ বিদ্যালয়টি ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এলাকার পিছিয়ে পড়া মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এলাকার সাধারণ মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি বর্তমানে অনন্য অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় কিছু কুচক্রীমহলের কারণে বিদ্যালয়টির সুনাম নষ্ট হচ্ছে। একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রীমহল গোপনে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন দাতাগণের নামের পূর্ববর্তী তালিকায় (অনার বোর্ড) নামের ক্রম পরিবর্তন করে প্রথম সারির দাতাগণকে তালিকার নীচে ও অন্যদেরকে তালিকার উপরে স্থান দিয়ে নতুন তালিকা তৈরি করেছেন। এ তালিকা বোর্ডে প্রদর্শনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের মূল ফটকের নামফলকে গেইট দাতা কিংবা সৌজন্যে না লিখে গেইট দাতা ফ্রান্সপ্রবাসী আজিজুর রজমানকে স্কুলের দাতা হিসেবে লিখে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বৃহত্তর সুড়িকান্দি এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগকারী রুহেল আহমদ অভিযোগ করেন, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের পাঁয়তারা হিসেবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠাকালীন দাতাগণকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন কিছু কুচক্রীমহল। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, তার পিতা হাজী ছমির উদ্দিন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতাকালীন সদস্য ও ভূমিদাতা ছিলেন। এছাড়া ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ক্রম অনুযায়ী তার পিতার নাম আগে এতোদিন ছিলো। এছাড়া খলিলুর রহমান নামের একজন প্রতিষ্ঠাতার নাম অনার বোর্ডে নাই-ই। সম্প্রতি একটি মহল তার পিতার নামসহ আরও কয়েকজনের নামের ক্রম পরিবর্তন করে অন্যদের নাম আগে লিখে বোর্ডে প্রদর্শন করা হচ্ছে। আমরা এলাকার লোকজন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ বিষয়ে একটি বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমরা আশাবাদী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান রঞ্জন দে বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয় বলার পরে গেইটের বিষয়টি সংশোধনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শীঘ্রই সংশোধিত লেখা গেইটে স্থাপন করা হবে। আর প্রতিষ্ঠাতাদের নামের তালিকা আগে যেভাবে আছে সেভাবেই আছে বলে তিনি দাবি করেন। কমিটি যেভাবে অনুমোদন দিবে সেভাবেই সবকিছু করা হয়ে থাকে। এখানে আমার একার কিছু করার নেই।
এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষানুরাগী ও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম শফিকুর রহমান জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনেকের অমত থাকা সত্তে¡ও অতি গোপনে কিছু ব্যক্তি প্রতিষ্ঠাতাকালীন সদস্যদের ক্রম পরিবর্তন করে বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটা নি:সন্দেহে অবমূল্যায়ন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম অভিযোগপ্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলেছি গেইটের দাতা সদস্য নামটি তুলে নিয়ে সংশোধন করার জন্য।
আপনার মন্তব্য