সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

২৫ নভেম্বর, ২০২২ ১২:১০

পাঁচ দিনের ব্যবধানে সুনামগঞ্জে আবার পরিবহন ধর্মঘট, যাত্রী ভোগান্তি

সড়কে রাখা তিনটি বাস থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।

জেলার ওয়েজখালী এলাকার সড়ক থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্যামলী, মামুন ও সাকিল পরিবহনের তিনটি বাস জব্দ করে পুলিশ।

এ ঘটনায় চালক-শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন বৃহস্পতিবার রাতেই।

ধর্মঘটে শুক্রবার সকাল থেকে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। আন্তজেলা বাসও চলাচল করেনি।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, জেলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সংস্কার না করে সড়কের পাশে পার্কিং করা বাস জব্দ করায় এবং শ্রমিকদের হয়রানি করায় এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তারা।

সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বলেন, ‘আমাদের ওপর পুলিশ অত্যাচার শুরু করেছে। আমরা বাস টার্মিনাল সংস্কার করার দাবি করে আসছি। কারণ আমাদের এখানে লোকাল বাসও রাখার জায়গা নেই।

‘তার মধ্যেই বাহিরের বাসগুলাও আসে। এগুলো রাখব কীভাবে পুলিশ না বুঝে আমাদের বাসগুলোর ওপর মামলা দিয়ে হয়রানি করে। আমরা তার প্রতিবাদ জানাই। যতদিন পর্যন্ত তারা আমাদের এই বিষয়ে কোনো সুরাহা না করবে, আমরা ধর্মঘট পালন করে যাব।’

ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কোনো ঘোষণা না দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

হাসন নগর এলাকার শাহরিয়ার বাপ্পি বলেন, ‘আজ সিলেট যাওয়া আমার জন্য খুব প্রয়োজন ছিল। এখন বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনি বাস ধর্মঘট চলছে।

‘এটা কেমন ধর্মঘট? ২ দিন আগেও তারা ধর্মঘট ডেকেছিল। এখন আবার ডাকল।’

রাজধানীর ফকিরাপুলের বাসিন্দা নাজমুল হাসান বলেন, ‘দুই দিন আগে সুনামগঞ্জ এসেছিলাম কাজে। আজ আবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু টার্মিনালে এসে দেখি ধর্মঘট। এটা ভোগান্তি ছাড়া কিছু না; যাত্রীরা ধর্মঘটে অসহায়।’

পুলিশের ভাষ্য

বাস থানায় নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান শাহ্ বলেন, ‘সড়কের ওপরে বাস রাখলে জনগণের ভোগান্তি হয়। প্রতি আইনশৃঙ্খলা সভাসহ বিভিন্ন সভায় এ বিষয়টি বারবারই আলোচনা হয়।

‘তাই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনের জন্য তিনটি বাস পুলিশ লাইনসে এনে রাখা হয়েছে। এটিকে ইস্যু করে ধর্মঘট ডেকে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা যুক্তিযুক্ত হবে না।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত