২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:৫৭
দলের আভ্যন্তরীন বিরোধের কারণে বিপাকে পড়েছেন জগন্নাথপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনেনানীত প্রার্থী। দলের ভেতরের বিভক্তি সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রধান দুই দলের প্রার্থকে। দলীয় এই বিরোধের প্রভাব নির্বাচনেও পরতে বলে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
এদিকে, প্রবাসীবহুল অঞ্চল সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে শেষ সময়ে এসে নিজেদের পক্ষে ভোটারদের টানতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন মেয়র প্রার্থীরা। ভোট কিনতে কালো টাকা বিতরনের অভিযোগও ওঠেছে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। প্রার্থীরাই একে অপররের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল মনাফ। দল মনোনয়ন দিলেও আভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে এবার চাপের মুখে পড়েছেন মনাফ।
জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে প্রথমে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদের নেতৃত্বে তৃণমুল নেতাকর্মীরা সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মিজানুর রশীদ ভূইয়াকে স্থানীয়ভাবে দলীয় মেয়র প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠান। তবে কেন্দ্র থেকে দলীয় প্রার্থীতা নিয়ে আসেন আলহাজ্ব আব্দুল মনাফ। তবে দলীয় মনেনানয়ন পেলেও দলের অনেক নেতাই মনাফের পক্ষে মাঠে নামেননি বলে জানা গেছে।
গত সংসদ নির্বাচন থেকেই জগন্নাথপুরে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দুই ভাগে বিভক্ত। এই বিভক্তির প্রভাব পড়তে পারে পৌর নির্বাচনেও।
এদিকে, দলীয় বিভক্তি নিয়ে বিপাকে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী রাজু আহমদও। তার পক্ষেও স্থানীয় অনেক নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায় নি। দুই প্রধান দলই ঘর সমালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
এছাড়া জগন্নাথপুর একটি প্রবাসী অধ্যূষিত উপজেলা হওয়ায় অধিকাংশ প্রবাসী পরিবারের লোকজন প্রবাসীদের হাতের দিকে চেয়ে থাকেন। প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় চলে তাদের সংসার। তার উপর কোন নির্বাচন এলে এখানে শুরু হয় টাকার খেলা। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনেও তার প্রভাব পড়েছে। নির্বাচনে অংশ গ্রহনকারী ৩ মেয়র প্রার্থীই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। তিন প্রার্থীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওঠেছে কালো টাকার ব্যবহারের।
বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী রাজু আহমদ অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামীলীগের প্রার্থী আব্দুল মনাফ প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। এছাড়া পৌর শহরের সকল গ্রামে তাঁর মনোনীত লোকদের মাধ্যমে গোপনে কালো টাকা বিতরণ করছেন।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব শাহ নুরুল করিম অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী আব্দুল মনাফ জন-বিচ্ছিন্ন হয়ে এখন কালো টাকা ছড়িয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন। পৌর শহরের ইসহাকপুর গ্রামের ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণকালে মনাফের লোকজনকে হাতেনাতে ধরেও স্থানীয় জনগনের অনুরোধে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
তবে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আব্দুল মনাফ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমি নয়, কালো টাকা বিতরণ করছেন বিএনপি প্রার্থী রাজু আহমদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ নুরুল করিম।
জানা যায়, ১৯৯৯ সালে ৪ নং জগন্নাথপুর সদর ইউনিয়নকে পৌরসভায় উন্নীত করেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ। এ সময় জগন্নাথপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক ছিলেন মুকিত মিয়া ও প্রথম পৌর চেয়ারম্যান ছিলেন প্রয়াত হারুনুর রশীদ হিরন মিয়া।
৯ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার ৫৯৮ ও ভোট কেন্দ্র ১১ টি।
জগন্নাথপুরে এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৩, নারী কাউন্সিলর পদে ১০ ও পুরুষ কাউন্সিলর পদে ৩৪ সহ মোট ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আপনার মন্তব্য