নিজস্ব প্রতিবেদক:

১৩ ডিসেম্বর, ২০২২ ২৩:৩৮

বিপন্নপ্রায় ককবরক ভাষায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অনুবাদ

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ত্রিপুরাদের মাতৃভাষা ‘ককবরক’ বিপন্নপ্রায়। অবহেলিত মাতৃভাষার জন্য কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করছিলেন যুবরাজ দেববর্মা। অন্যান্য ভাষাভাষী মানুষের সামনে ককবরক ভাষাকে তুলে ধরার ইচ্ছাটা মনের মধ্যে পুষছিলেন দীর্ঘদিন ধরে।

এর মধ্যে ২০১২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশিত হলে উপলক্ষ পেয়ে যান যুবরাজ। দ্রুত ককবরক ভাষায় বইটির কিছু অংশ অনুবাদ করে ফেলেন। কিন্তু পড়াশোনার চাপসহ নানা কারণে সে চেষ্টা বেশি দূর এগোয়নি।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় পৃথিবী তখন স্থবির। যুবরাজ দেববর্মা কাজটি নতুন উদ্যমে শুরুর জন্য সেই সময়কে বেছে নেন। মাতৃভাষায় অনুবাদ করে ফেলেন ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’। ককবরক ভাষায় যার নাম দিয়েছেন ‘পাইথাকয়া লাংমা’।

যুবরাজ দেববর্মার বাড়ি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডলুছড়া ত্রিপুরাপল্লিতে। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে নৃবিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করেছেন যুবরাজ। তিনি বলেন, পাণ্ডুলিপি প্রকাশের বিষয়ে একটি প্রকাশনীর সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা হয়েছে। বই প্রকাশের জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমতি নেওয়ারও প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশের আড়াই লাখ ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুবরাজ দেববর্মা। তিনি বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশিত হওয়ার পর সেটি তিনি মাতৃভাষায় অনুবাদ করবেন বলে ঠিক করেন। কিন্তু তখন পড়াশোনার চাপ ও ককবরক ভাষার ওপর যথেষ্ট দখল না থাকায় অনুবাদের কাজটি বেশি দূর এগোয়নি। পড়াশোনা শেষ করতে গিয়ে এ কাজে আর হাত দেওয়া হয়নি।

শৈশবে মায়ের মুখে মাতৃভাষায় প্রবাদ-প্রবচন শুনে তার ভেতর অন্য এক জগৎ তৈরি হয় বলে জানান যুবরাজ।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় মাকে হারান। বাবাকে হারিয়েছেন অনেক বছর আগে। মা ছিলেন তার সব কাজের প্রেরণার উৎস। মায়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপর রাঙামাটিতে বড় বোনের বাড়িতে চলে যান। সেখানকার একটি বইয়ের দোকান থেকে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কিনে নতুন করে হাত দেন অনুবাদে। ২০২০ সালের অক্টোবরে শুরু করেন কাজ। রাঙামাটিতে অবস্থানকালেই বেশির ভাগ অংশ অনুবাদ করে ফেলেন। ককবরক ভাষাটা তত দিনে আগের চেয়ে অনেক বেশি আয়ত্তে চলে আসে তার। হাতের কাছে ছিল অভিধানও। বাকিটা শেষ করেন ডলুছড়ায়। ২০২১ সালের মার্চ মাসে অনুবাদের কাজ শেষ করেন।

‘মুজিব বর্ষে’ বইটি প্রকাশের ইচ্ছা থাকলেও সেটা আর সম্ভব হয়নি বলে আক্ষেপ করেন যুবরাজ দেববর্মা।

তিনি বলেন, ‘বিপন্নপ্রায় একটি ভাষায় কাজটি করা সহজ ছিল না। অনেক শব্দ হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের পরের প্রজন্ম ককবরক ভাষার সব শব্দের সঙ্গে পরিচিত নয়। এ বইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংযোগ তৈরি ও মাতৃভাষাকে অন্যান্য ভাষার মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে চাই।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত