২৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২২:৩১
বুধবার দেশের সীমান্তবর্তী পৌর শহর জকিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। তাই সোমবার রাত বারটায় শেষ হচ্ছে প্রার্থীদের সব রকম আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৬ মেয়র, ৮ সংরক্ষিত কাউন্সিলর, ৩১ সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী দিনভর বিভিন্ন এলাকায় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচার চালান শেষ মুহুর্তের।
মেয়র পদের দুই প্রার্থী সোমবার বিকেলে পৃথক দুইটি পথসভা করেন জকিগঞ্জে। নৌকার প্রতিনিধি হাজী খলিল উদ্দিন গন্ধদত্ত, খালপাড়, বিলেবন্দ, কাস্টমসঘাট, গোপীরচক, সদরপুর, পীরেরচক, জকিগঞ্জ বাজার এলাকায় শেষ দিনে গণসংযোগ করেছেন। তার পক্ষে জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. মোর্শেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী, উপজেলা সভাপতি লোকমান উদ্দিন চৌধুরী ব্রাম্মণগ্রাম, আনন্দপুর ও ছযলেনে গণসংযোগ করেন।
বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী খলিল উদ্দিন উন্নয়নের স্বার্থে পৌরবাসীকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান জানান। তার মতে এক্সিলেন্স একাডেমী, পঙ্গপট ও মাইজকান্দি ভোট কেন্দ্রগুলি ঝুঁকিপূর্ণ।
ধানের শীষের প্রতিনিধি অধ্যাপক বদরুল হক বাদল সোমবার পৌরসভার ৩,৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হেলাল আহমদ চৌধুরী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শাকুর, বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন, চেরাগ আলী ও মাসুম আহমদ। বাদল অভিযোগ করেন নির্বাচনী প্রচারে তিনি সমান সুযোগ পাননি। আওয়ামীলীগের প্রার্থী ৫ জনের বেশি লোক সাথে নিয়ে প্রচার চালালেও তাকে পাঁচজনের বেশি লোক সাথে নিতে দেয়া হয়নি। কেজি স্কুল, মাদ্রাসা সেন্টার, মধুদত্তকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে বাদল বলেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষের বিজয় সময়ের ব্যাপারমাত্র। দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে শান্তি-সমৃদ্ধির লক্ষে ধানের শীষে ভোট কামনা করেন। তিনি বলেন তার লড়াই হবে নৌকা প্রতীকের সাথে।
জকিগঞ্জের বর্তমান মেয়র জাপা প্রার্থী আব্দুল মালেক ফারুক সদরপুর,বিলেরবন্দ, কেছরী, মধুদত্ত, আনন্দপুর, মাইজকান্দি, আলমনগর, পীরেরচক, বিলেরবন্দসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যস্ত প্রচার চালান। সন্ধ্যায় মুক্তাঞ্চল চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবী ডা. আব্দুল হান্নান। উপজেলা জাপার প্রচার সম্পাদক মুহিবুর রহমানের পরিচালনায় এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা জাপার সহ সভাপতি আব্দুস শহীদ বশির লস্কর। বক্তব্য দেন স্থানীয় এমপি সেলিম উদ্দিনের একান্ত সচিব রুহুল আমিন রাজু, উপজেলা যুব সংহতির আহবায়ক জালাল উদ্দিন,তাজুল ইসলাম,হাসান আহমদ, সালমান আহমদ চৌধুরী, রুহুল আমিন প্রমুখ। প্রার্থী আব্দুল মালেক ফারুক উন্নয়নের স্বার্থে পৌরবাসীকে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার সুযোগ চান। তার মতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিফজুর রহমানের মোবাইল প্রতীকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।পঙ্গপট কেন্দ্রকে ঝুকিঁপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মোবাইল মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি আরেক মেয়র প্রার্থী আল ইসলাহ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী হিফজুর রহমান মাইজকান্দি, পঙ্গপট, বিলেবন্দ, জকিগঞ্জ বাজার, কেছরী, আনন্দপুর, পীরেরচক সদরপুর এলাকায় গণসংযোগ করেন। সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালিক, আল ইসলাহ নেতা জহির উদ্দিন চৌধুরী বাবর, জাপা নেতা বুরহান উদ্দিন মুক্তা, জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল মুকিত, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার জবাই, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, মইন উদ্দিন প্রমুখ এ সময় তার সাথে ছিলেন। তার মতে কোনো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। নৌকার সাথে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে তিনি জানান।
জগ মার্কার প্রতিনিধি স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ মাইজকান্দিতে সকালে উঠান বৈঠক করেন। মাছাইরচক, গন্ধদত্ত, ছয়লেন, খলাছড়া, বিলেরবন্দসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। কেজি স্কুল, কলেজ সেন্টার ও মাদ্রাসা সেন্টার আওয়ামীলীগ জোরপূর্বক দখলের আশঙ্কা ব্যক্ত করে ফারুক আহমদ বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে জয়ী হবো ইনশাল্লাহ্। জগ মার্কায় ভোট দিয়ে ফারুক আহমদের বিরুদ্ধে করা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেয়ার আহবান জানান পৌরবাসীকে। তার মতে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মোবাইল প্রতীকের সাথে।
স্থানীয় মুরুব্বি গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সংগঠক আমির হোসেনের পরিচালনায় বাস স্টেশন এলাকায় খেলাফত মজলিস প্রার্থী জাফরুল ইসলামের শেষ সভায় বক্তব্য দেন মাওলানা মখলিসুর রহমান, সংগঠক এম এ হাফিজ বকুল, খায়রুল ইসলাম,ফুরকান আহমদ মুন্সী, আব্দুল কুদ্দুস, আজমল হোসেন প্রমুখ। এসময় জাফরুল ইসলাম বলেন নির্বাচিত হলে তিনি তার সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শতভাগ সৎ থেকে পৌরসভার উন্নয়নে কাজ করবেন। পঙ্গপট, কেজি স্কুল ও এফআইভিডিবি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন তিনি। তার মতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।
সোমবার প্রচারের শেষ দিনে কাকডাকা ভোর থেকে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী, তাদের কর্মী, সমর্থকরা আধাজল খেয়ে মাঠে নামেন। চলে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার। শেষ দিনের জমজমাট প্রচারে সীমান্তবর্তী পৌর শহর জকিগঞ্জে উৎসবের আমেজ ছিল লক্ষ্যনীয়।
আপনার মন্তব্য