০৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:৪৭
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান্ট) স্লিপের অর্থ খরচে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রতি বছর সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা উপকরণ,খেলাধূলা উপকরণ ও শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ কাজের জন্য উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিলেও অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিলে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনী কাজ না করে ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
২০২০-২০২১ অর্থ বছরে উপজেলার ১৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র সংস্কার কাজের জন্য সরকার থেকে স্লিপের বরাদ্দ আসে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক বিদ্যালয়ে এসব টাকা খরচে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, উপজেলার আউদত পূর্ব বুধরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,পূর্ব কাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,সাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ অর্থ বছরে বরাদ্দকৃত স্লিপের অর্থের কোন কাজ হয়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বেরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুক্লা বৈদ্য বলেন,বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকা থেকে স্কুলের সামনে মাটি ভরাটের কাজ ও কিছু ব্রেঞ্চের কাজ করেছি। ১৭ হাজার টাকা আমাদের কাছে আছে। কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিক্তিতে বাকী টাকার কাজ করবো।
পূর্ব বুধরাইল আউদত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দু নেছা জানান, স্কুলের নতুন কমিটি গঠনের পর এই টাকা দিয়ে কাজ করবো। স্লিপের বরাদ্দকৃত টাকা জমা রয়েছে।
সাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন জানান, সরকারের বরাদ্দকৃত স্লিপের অর্থের কাজ হয়েছে। কোন অনিয়ম হয়নি।
পূর্ব কাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার বলেন,বিদ্যালয়ের চেয়ার,টেবিল ও ব্রেঞ্চের কাজ করেছি। কোন অনিয়ম হয়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলার ৭ নং সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে প্রায়ই স্লিপের অর্থ খরচ নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির মধ্যে দ্বন্দ্বের খবর পাওয়া যায়। এখাতের অর্থ খরচে মনিটরিং বাড়ানো দরকার।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাস বলেন কিছু বিদ্যালয়ে কাজের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।
আপনার মন্তব্য