বড়লেখা প্রতিনিধি:

০৮ জানুয়ারি, ২০২৩ ২৩:৪৬

অবশেষে মেরামত হচ্ছে বাঁশ পড়ে ভেঙে পড়া আশ্রয়নের ঘরের বারান্দা

মৌলভীবাজারের বড়লেখার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির মোহাম্মদনগর গ্রামে বাঁশ পড়ে বিদ্যুতের তারে টান খেয়ে ভেঙে পড়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘরের বারান্দা অবশেষে মেরামত করা হচ্ছে। দুই-তিনদিনের মধ্যে ঘরের বারান্দার মেরামত কাজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত ৩ জানুয়ারি সিলেটটুডেতে ‘বাঁশ পড়ে ভাঙল আশ্রয়নের ঘরের বারান্দা’, মামলা হলো ভাঙচুর-চুরির! ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট মহলের টনক নড়ে।

গত ১৮ ডিসেম্বর বাঁশ কাটার সময় অসাবধানতা বশত বাঁশ পড়ে বিদ্যুতের তারে টান খেয়ে ঘরের বারান্দা ভেঙে পড়ে। কিন্তু ২০ ডিসেম্বর প্রশাসন আশ্রয়ন প্রকল্পের ওই ঘরটির দরজা, জানালা, টিনের চালাসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে থানায় মামলা করে।

বড়লেখা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম চৌধুরী বাদী হয়ে মোহাম্মদনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাদিক, আব্দুল মালিক, মো. রেজা ও জাসমিন বেগমকে আসামি করে মামলাটি করেন।

এদিকে ভাঙচুর-চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলার ঘটনায় বিষ্মিত হন এলাকাবাসী।

তাদের দাবি, মামলার এজাহারে যেসব অভিযোগ আনা হয় তা সঠিক নয়। মূলত ঘরের নিম্নমানের কাজ ঢাকতে সাজানো মামলা করা হয়েছে বলে তারা পাল্টা অভিযোগ করেন।

এই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে টনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের। এরপর ভেঙে পড়া ঘরটির বারান্দার মেরামতের কাজ শুরু হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ভেঙে পড়া ঘরের বারান্দার দুটি পিলারের কাজ শেষ হয়েছে। একটি পিলারে শ্রমিকরা পলেস্তরা করছেন। আগের পিলারগুলোতে রড না থাকলেও নতুন পিলারগুলোতে রড দেওয়া হয়েছে। ওই ঘরের উপকারভোগী পারভিন নেছাকে তখন পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও আব্দুল হান্নান বলেন, ‘৩-৪ দিন ধরে বাঁশ পড়ে বিদ্যুতের তারে টান খেয়ে ভেঙে পড়া আশ্রয়নের ঘরের কাজ চলছে। পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর প্রশাসন তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করেছে। এসব ঘরের কাজ নিম্নমানের হয়েছিল, যার কারণে সামান্য বাঁশ পড়ে তা ভেঙে গেছে।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেইনের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, ‘আশ্রয়ন প্রকল্পের যে ঘরের বারান্দা ভেঙে পড়েছিল, সেই ঘরটির কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।’ তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

বড়লেখা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান বলেন, ‘যে ঘরের বারান্দা ভেঙে পড়েছিল, ওই ঘরে কাজ করানো হচ্ছে। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কাজ শেষ হলে উপকারভোগীর হাতে ঘর পুনরায় হস্তান্তর করা হবে।’

ঘর ভাঙচুর-চুরির অভিযোগে থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল হক বলেন, ‘ঘটনাটি এখনও তদন্ত চলছে। আশপাশের কয়েকজনের স্বাক্ষি নেওয়া হয়েছে। মামলার বাদি ও এজাহারে উল্লেখিত স্বাক্ষিদের বক্তব্য নেওয়ার বাকি রয়েছে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত