২৯ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৯:০০
জকিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন বুধবার।সীমান্ত এলাকার পৌষের হাড় কাঁপানো শীতকেও হার মানিয়েছে নির্বাচনী উত্তাপ।
তৃতীয় বারের মত অনুষ্ঠিতব্য জকিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে জয়ী হতে প্রার্থী, সমর্থক ও নেতাকর্মীদের নির্ঘুম প্রচার প্রচারণায় মুখরিত ছিল পৌর শহর। ৬ জন মেয়র, ৮ সংরক্ষিত কাউন্সিলর, ৩১ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে কে হাসবেন শেষ হাসি?
এখন পুরো জকিগঞ্জ জুরে চলছে ভোটারদের হিসাব নিকাশ মিলাবার পালা। বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী মেয়র প্রার্থী সকলেই। দলীয় ব্যানারে প্রথমবারের মতো নির্বাচন হওয়াতে সহজেই কেউ হিসাব মিলাতে পারছেন না ঠিকমতো। জকিগঞ্জের ঘরে বাইরে সর্বত্র এখন আলোচনার বিষয় কে হাসবেন শেষ হাসি।
নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা শেষ হয়েছে সোমবার রাত ১২টায়। চলছে এখন মোবাইল ফোন আর ব্যক্তিগত যোগাযোগ। জকিগঞ্জের পৌর নির্বাচনে আ.লীগ, বিএনপি,জাপা ও খেলাফত দিয়েছে দলীয় প্রার্থী। জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় কার কার বাক্সে যাচ্ছে দলীয় ভোট সে হিসাব মিলাতে চেষ্টা করছেন স্থানীয় লোকজন।
জকিগঞ্জের নির্বাচনে বরাবরের মত এবারও সম্প্রদায়গত ভোট একটা ফ্যাক্টর। এই ভোটের দিকে প্রার্থীদের আলাদা দৃষ্টি ছিল এবারও। এ ভোটের বড় একটি অংশ যেতে পারে হাজী খলিল উদ্দিনের বাক্সে এমনটাই বলেছেন অনেকে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের হিসাবনিকাশও চলছে সমান তালে। কোন কেন্দ্রে কোন প্রার্থী কত ভোট পাবেন এমন হিসাব মিলাচ্ছেন উৎসুক ভোটাররা। কে কোন কেন্দ্রে বিজয়ী হবেন। প্রার্থী নিজ এলাকার বাইরে অন্য এলাকা থেকে কত ভোট টানতে পারবেন এমন আলোচনাও রয়েছে।
নৌকার প্রতীকের প্রার্থী হাজী খলিল উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান আমি ১৯৭১ সালে স্থানীয় প্রশাসকদের একজন ছিলাম। দীর্ঘদিন ধরেই জকিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে রয়েছি। মানুষের ক্ষতি করিনি কোন দিন। সেবা করাই আমার মূল কাজ। উন্নয়নের স্বার্থে এবার মানুষ আমাকে বিপুল ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক বদরুল হক বাদল বলেন, গোটা দেশের মানুষ আজ পরিবর্তনের পক্ষে। ব্যালটের মাধ্যমে জকিগঞ্জের মানুষ প্রমাণ করবে তারা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে চায়। নির্বাচিত হলে সাবেক সফল মেয়র ইকবাল আহমদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে পৌরবাসীর খাদেম হিসেবে নিজেকে নিবেদন করবো।
আওয়ামীলীগের জগ প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ বলেন, অন্যায় অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি বার বার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। পৌরসভার উন্নয়ন আর পৌরবাসীর সেবার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চাই। জগ প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণ সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে। কে প্রকৃত আওয়ামীলীগ তা প্রমাণিত হবে বুধবার।
লাঙ্গলের প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুল মালেক ফারুক বলেন জনগণের ভালবাসায় আমি ইউপি সদস্য থেকে কাউন্সিলর এবং মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছি। মানুষের বিপদে-আপদে কতটুকু কাছে থাকতে পেরেছি, সেটা জনগণ বিচার করবেন। নির্বাচিত হলে অতীত অভিজ্ঞতা সামনে রেখে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে পৌরবাসীর সেবা করার চেষ্টা করবো।
তরুণ স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী হিফজুর রহমান বলেন, মানুষ সৎ, যোগ্য, দক্ষ একজন প্রতিনিধি চায়। মানুষের পাশে থেকে পৌরসভার উন্নয়ন করতে চাই। অনুন্নত, সমস্যা গ্রস্থ ও অবহেলিত পৌরসভাকে উন্নত করতে ভোটারা আমাকে ভোট দেবেন।
খেলাফত মজলিস প্রার্থী, সোনার বাংলা সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাফরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্নভাবে বহু মানুষকে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছি। গরীব মানুষদের মধ্যে ঈদ সামগ্রী, শীত বস্ত্র বিতরণ করছি। মানুষের সেবার জন্য এ্যাম্বুলেন্স কিনেছি। সব মিলিয়ে অনেকভাবে অনেককে সহযোগিতা করে আসছি। বিজয়ী হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি বলেন সৎ থেকে কাজ করলে পাঁচ বছরেই পৌর এলাকার হেচারা পাল্টে দেয়া সম্ভব।
আপনার মন্তব্য