নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ এপ্রিল, ২০২৩ ০১:৪৭

ধর্মে মুসলমান তারা, চুরির জন্যে শাঁখা-সিঁদুর পরে ধরতেন ছদ্মবেশ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে আটক চোরচক্রের ২৭ সদস্যের ২৪ জনই ছিলেন নারী। তারা আন্তঃজেলা চোরচক্রের সদস্য, এবং চুরির জন্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ভাড়া করা মাইক্রোবাসে সিলেট এসেছিলেন তারা। তারা ধর্মে মুসলমান হলেও চুরির জন্যে হিন্দু সাজতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে আটক চোরদের সম্পর্কে জানায় পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব, গোলাপগঞ্জ সার্কেল) আশরাফুজ্জামান জানান, আটক ২৪ নারী ধর্মে মুসলমান হলেও শাঁখা-সিঁদুর পরে হিন্দু সেজে ছদ্মবেশে চুরিতে অংশ নিতেন।

আশরাফুজ্জামান জানান, গোলাপগঞ্জ থানার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের মিশ্রপাড়া গ্রামে অবস্থিত শ্রীচৈতন্য দেব মন্দিরে বার্ষিক বারনীমেলা চলছে। এই মেলায় আগত পুর্ণার্থীদের বিভিন্ন মালামাল খোয়া যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গোয়েন্দা অভিযানেই ২৪ নারীসহ ২৭ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা এবং হিন্দু নারীদের ব্যবহৃত হাতের শাঁখা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতদের ২৪ নারীর প্রত্যেকের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানাধীন ধরমণ্ডল গ্রামে। বাকি তিনজন হবিগঞ্জের মাধবপুরের বাঘশুরা গ্রামের ইজাজ আলীর ছেলে সুহেল মিয়া, একই থানার ফতেপুর গ্রামের মো.শামীম মিয়ার ছেলে শাহিন আলম (২০) ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ছত্তিশ গ্রামের সামছু মিয়ার ছেলে ছাইদুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, তারা এরকম বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জড়ো হয়ে চুরি করে থাকে। শ্রীচৈতন্য মন্দিরে মেলায় চুরির উদ্দেশে আসেন এবং সুকৌশলে নিজেরা ভিড় তৈরি করে পূণ্যার্থীদের অলংকার ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে- স্বর্ণের চেন ৯টি, হাতের বালা ১ জোড়া, চুড়ি ৪ জোড়া, কানের দুল ১৪ জোড়া, রূপা সদৃশ চেন ৮টি, রূপা সদৃশ নূপুর ৮টি, হিন্দু নারীদের ব্যবহৃত হাতের শাঁখা ৬টি, পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত নোহা মাইক্রোবাস ১টি এবং মোবাইল ফোন ৭টি।

সোমবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা ওসি শ্যামল বণিক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত