জুড়ী প্রতিনিধি

০৬ এপ্রিল, ২০২৩ ১৪:৫৫

জুড়ীতে পানির নিচে ৩০০ একর জমির বোরো ধান

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে গৌরাঙ্গ বিল ও খাই বিলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এক রাতের বৃষ্টিতে প্রায় তিনশ একর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় কুইয়াছড়া নদী খননের দাবি জানান।

কৃষক বশির উদ্দিন, আতিকুর রহমান, দুলাল মিয়া, জয়নাল আবদীন, বাবুল মিয়া, আব্দুস ছালাম, ফরিজ আলী, মামুনুর রশীদ, ধলু মিয়া প্রমুখ বলেন, জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর, কৃষ্ণনগর, হরিরামপুর, গৌরাঙ্গ ও ধামাই এলাকায় গৌরাঙ্গ বিল ও খাই বিল অবস্থিত। এখানকার বৃষ্টির পানি কুইয়াছড়া নদী দিয়ে নিষ্কাশন হয়ে হাওড়ের দিকে প্রবাহিত হয়। কুইয়াছড়া নদী দিয়ে গৌরাঙ্গ বিল ছাড়াও ধলছড়ি, রাঙ্গাউটি ছড়া ও আইনজুড়ী ছড়ার পানি প্রবাহিত হয়।

কিন্তু কুইয়াছড়ায় ধলছড়ি সংযোগ স্থলের নিচের দিক ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ভাটির দিকে না গিয়ে উজানের দিকে প্রবাহিত হয়। এতে করে গৌরাঙ্গ বিল এলাকায় বিশাল জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যে কারণে সোমবার ভোর রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে এখানে প্রায় ৪০০ একর জমির বোরো ধানের মধ্যে প্রায় ৩০০ একরের ধান পানিতে তলিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আতিকুর রহমান বলেন, আমার মতো বহু কৃষক ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করে ফসল ফলিয়েছেন। দেরিতে হলেও মৌসুমের প্রথম দিকের বৃষ্টিতে ভালো ধান হয়েছিল। কিন্তু এক রাতের বৃষ্টিতে আমাদের সব স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। শত শত কৃষকের মাথায় হাত। এখন ঋণের বোঝা বইতে হবে।

স্মরণরায় নালা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সম্পাদক বশির উদ্দিন বলেন, কুইয়াছড়া ভরাট হয়ে যাওয়াই জলাবদ্ধতার কারণ। কুইয়াছড়া সেতুর কাছ থেকে ফানাই মুখ পর্যন্ত নদী খনন এবং ধামাই রত্না ছড়া (রাতুয়া ছড়া) থেকে কদারাম ছড়ার সঙ্গে খনন করে সংযোগ স্থাপন করে দিলে এ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে।

ইউপি সদস্য জয়নাল আবদীন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে বিশাল এলাকার ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখানকার শত শত কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনফর আলী বলেন, এখানকার জলাবদ্ধতা দূর করতে হলে কুইয়াছড়ায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার নদী খনন করতে হবে। এ জন্য প্রায় চার মাস আগে আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত