০৭ এপ্রিল, ২০২৩ ১৫:১৩
পাবেল আহমেদ (বামে) এবং কৃষক দেবল তালুকদার (ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি)
সরকারি ত্রাণ সহায়তা এনে দেয়ার কথা বলে সুনামগঞ্জের শাল্লায় ভান্ডাবিল হাওর উপ-প্রকল্পের ১৯নং পিআইসির কমিটিতে দেবল তালুকদার নামের এক কৃষকের স্বাক্ষর জাল করে তাকে সদস্যপদে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে দেবল তালুকদারের স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই ভিডিওতে দেবল তালুকদার বলেন, পিআইসির আমি কোনো কিচ্ছু জানি না! পাবেল আমারে কইছে তোমার আইডি কার্ড দেও আর একটা ছবি দেও, বাড়ির পর্চাও দেও। আমি কইছি কিতার লাগি? তখন পাবেল আমারে কইছে তোমার একটা লাভ অইব। পরে মাঘ মাসে আবার আমারে ফোন দিছে। ফোন দিয়া কইতাছে দেবলদা তুমি একটু ঘুঙ্গিয়ারগাঁও আইতইবায়। আমি কইছি আমার ইতার সময় নাই। পরে আমারে কইছে দেবলদা তোমার আওন লাগত না, সাইরালাইছি!
অন্যদিকে পিআইসিতে কোনো স্বাক্ষর দিছেন কিনা-জনৈক ব্যক্তির এমন প্রশ্নে দেবল তালুকদার উত্তরে বলেন, আমি কোনো পিআইসিতে স্বাক্ষর দেই নাই! ইতা সব ভুয়া বলেও জানান তিনি।
দেবল তালুকদার উপজেলার নারকিলা গ্রামের মৃত সুদীন তালুকদারের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) এবিষয়ে মুঠোফোনে ১৯ নং পিআইসির সদস্য সচিব পাবেল আহমেদ বলেন, দেবল তো একথা বলে নাই! ভুল বলতেছেন আপনি। এসময় কৌশলে কথা এড়িয়ে গিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেয় পাবেল।
তবে ১৯নং পিআইসির সদস্য দেবল তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, আমি কোনো সময় স্বাক্ষর দেই নাই। কোনো অভিযোগ করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গরিব মানুষ। এনিয়ে আমার কোনো সমস্যা হলে অভিযোগ করবেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে এবারও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, কারো স্বাক্ষর জাল করা নিঃসন্দেহে অপরাধ। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।
উল্লেখ্য, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে ভান্ডাবিল হাওর উপপ্রকল্পের আওতায় ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের জন্য ওই পিআইসির ৮৯০ মিটারে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৫লাখ ৮৭ হাজার টাকা। আছানপুর গ্রামের পূর্বদিকে এই দেওয়া হয়েছে। এখানে বাঁধের নামে মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণের জন্যই এই পিআইসি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে উপজেলার ৬টি হাওরে বোরো ফসলরক্ষায় ১০৬ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারে ১৯৭টি পিআইসির বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪০কোটি টাকা।
আপনার মন্তব্য