০৭ এপ্রিল, ২০২৩ ১৫:১৪
সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে যারা দীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষার পরও মূল্যায়িত হননি, এবার সেসব বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হতে পারে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। তাদের অনেকেই স্থান পাবেন গুরুত্বপূর্ণ পদে- দলটির বিশ্বস্ত সূত্র এমনটি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, প্রকৃত মুজিব আদর্শের সৈনিক ও জেলা ছাত্রলীগের ৮০/৯০ দশকের পোড়খাওয়া নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। এতে করে সুযোগসন্ধানী, সুবিধাবাদী ও হাইব্রিডমুক্ত হবে দলটি। ঘুচবে দীর্ঘ দিনের সাংগঠনিক বন্ধ্যাত্ব।
জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদক জানিয়েছেন- কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠীর আকাঙক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণে নয়, শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় দলকে তৃণমূলে শক্তিশালী ও জনমানুষের আকাঙক্ষা পূরণের লক্ষ্যে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। আর সেই আলোকেই প্রস্তাব আকারে ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির তালিকা কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ গঠনতন্ত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রস্তাব আকারে কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট এবং সাধারণ স¤পাদক নোমান বখত পলিন। তাঁরা জানান, প্রস্তাবিত এই কমিটি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আরো জানান, বিগত কমিটিতে ঠাঁই হয়নি এমন অসংখ্য মুজিব সৈনিক রয়েছেন যাঁরা আশি/নব্বইয়ের দশকে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দল ও নেত্রীকে ভালোবেসে অনেক ত্যাগ করেছেন তারা। অথচ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তাঁদের জায়গা হয়নি। এসব বঞ্চিত ও মুজিব আদর্শের সৈনিকদের নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সুইনডন ও সাউথ ওয়েস্টরিজিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদ হাবিব মারুফ বলেন, রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতি এসেছে। দলের দুর্দিনে যারা রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, দলের সুসময়ে তাঁদেরকে ঘরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। আশা করি এবার ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন হবে।
আশি/নব্বইয়ের দশকের ছাত্রনেতা, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু বলেন, বর্তমানে যারা জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন তাঁরা তৃণমূলের রাজনীতি করেই এই জায়গাতে এসেছেন। তারা দলের ত্যাগী এবং বঞ্চিত নেতাকর্মীদের বিষয়ে অবগত আছেন। কিন্তু, বিগত কমিটিতে অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। আমি বিশ্বাস করি জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব তাদের মূল্যায়ন করবেন এবং জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অত্যন্ত শক্তিশালী হবে।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কর বলেন, দীর্ঘদিন পরে জননেত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জের যে নতুন কমিটি উপহার দিয়েছেন, তাতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন হয়েছে। পরীক্ষিত এবং যোগ্য নেতারাই সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদক হয়েছেন। আমরা মনে করি তৃণমূল পর্যায়ে যাঁরা রাজনীতি করেন এমন ত্যাগী ও বঞ্চিতদের জেলা আওয়ামী লীগে স্থান হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম শামীম বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীদের যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হবে বলে বিশ্বাস করি। বিগত কমিটিতে যাঁরা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, হঠাৎ করে তাদেরকে প্রমোশন দেয়া হয়েছিল। এরকম কিছু নেতা হয়তো বাদ পড়তে পারেন।
সত্তর-আশির দশকের ছাত্রনেতা, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান পীর বলেন, পুরাতন ও পোড়খাওয়া আওয়ামী লীগার যাঁরা, আশা করছি তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান হবে। নতুন কমিটির নেতৃত্বে দল আরো গতিশীল হবে বলে বিশ্বাস করি। বিগত কমিটিতে অনেক প্রবীণ, যোগ্য আওয়ামী লীগ নেতাদের জায়গা হয়নি, এটা খুবই দুঃখজনক।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা জানেন কাকে দিয়ে কার আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ হবে। আমাদেরকে দলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠীর আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করার জন্য না। আমরা এসেছি জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী দল পরিচালনার জন্য। জনমানুষের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করে মূল্যায়ন না পেয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছিলেন এমন ত্যাগী যোগ্য নেতাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যাঁরা প্রকৃত মুজিব আদর্শের সৈনিক এতোদিন উপেক্ষিত ও বঞ্চিত ছিলেন তাঁদেরকে কমিটিতে প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
আপনার মন্তব্য