০৮ এপ্রিল, ২০২৩ ২০:১৮
শুক্রবার রাত ৯টায় সিলেট নগরীর মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে খুব একটা ভিড় নেই। কিন্তু নগরীর একটি কনভেনশন হলে পা ফেলার জায়গা নেই। কনভেনশন হলের সামনে থেকে শুরু করে পুরো হলের দুই ফ্লোরে প্রচুর নারীদের সমাগম। কেউ শাড়ি কিনছেন, কেউ সালোয়ার কামিজ, কেউবা কিনছেন জুয়েলারি। ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম দেখলে যে কেউ বলবে এটি কোনো মার্কেট ও শপিংমলের ভিতর। কিন্তু এটি কোনো মার্কেট ও শপিংমলের ভিতর না। এটি একটি নারী উদ্যোক্তা মেলা।
ঈদকে সামনে রেখে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারস্থ’ খান প্যালেস কনভেনশন হলে ৩ দিন ব্যাপী সিলেট ঈদ ফ্যাস্টিবলের আয়োজন করেছেন উদ্যোক্তা নাজিয়া চৌধুরী ও নাফিস শামস তিয়াস। গত বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করা হয়েছে এই আয়োজনের। শুক্র ও শনিবার সকাল ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত এই ঈদ ফ্যাস্টিবল থেকে করা যাবে কেনাকাটা করা যাবে বলে জানান ঈদ ফ্যাস্টিবলের আয়োজক নাজিয়া চৌধুরী। নারীদের পাশাপাশি রয়েছেন পুরুষ ও শিশুরা।
একই রকম ভাবে নগরীর উপশহরস্থ রোজ ভিউ হোটেলে আগামী ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘ঈদ ফেস্টিবল ফেয়ার’ নামে আরেকটি নারী উদ্যোক্তা মেলা। আগামী ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল দুপুর ১২টা থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত এই মেলা চলবে । সারা বাংলাদেশ থেকে আগত স্বনামধন্য সেলাররা এই মেলায় পণ্য বিক্রি করবে বলে জানান আয়োজক উদ্যোক্তা শ্রাবণী বিশ্বাস প্রিয়াংকা। এই দুটি নারী উদ্যোক্তা মেলাতে প্রবেশ বিনামূল্যে রাখা হয়েছে।
রমজানের পনের দিন পেরিয়ে গেলেই ডাক পরে ঈদ বাজারের। তবে সিলেটের মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে এখনো পুরোদমে কেনাকাটা শুরু হয়নি। কিন্তু ঈদ বাজারে নারী উদ্যোক্তাদের এই মেলাগুলো বেশ প্রভাব ফেলেছে। শাড়ি, কামিজ, জুতা, জুয়েলারি, প্রসাধনীসহ একটি মার্কেট ও শপিংমল যা যা পাওয়া যায় তার প্রায় সবকিছু মিলে এই মেলাগুলোতে। তাই ঈদের কেনাকাটা করতে ক্রেতারাও ভিড় করছেন এসব ঈদ ফ্যাস্টিবলে। ঈদের আগ পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি মেলার আয়োজন করা হবে বলে জানান এসব আয়োজনের সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা।
শুক্রবার রাতে নগরীর বালুচর এলাকা থেকে আসেন সুবিদবাজারস্থ’ খান প্যালেস কনভেনশন হলের মেলায় আসেন সৈয়দা জেবুন্নেচ্ছা। তিনি তাঁর দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আসেন। সৈয়দা জেবুন্নেচ্ছা বলেন, আমি মার্কেটের চেয়ে এরকম নারী উদ্যোক্তা মেলাগুলো থেকে বেশি পণ্য থাকে। এছাড়া মার্কেটের চেয়ে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্যের গুনগতমান অনেক ভাল থাকে। মেলায় অনেক অনলাইন ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে আসেন। আর এখন আমরা মেয়েরা অনলাইনের পেইজ থেকে বেশি কেনাকাটা করে। তাই মেয়েরা বেশি আসতে চায় কারণ পেইজের বিভিন্ন পণ্য তারা সরাসরি দেখে কিনতে পারে।
মেলায় আগত আরেক ক্রেতা তানহা ইসলাম বলেন, নারী উদ্যোক্তা মেলায় এসেছি ঈদের কেনাকাটা করতে। মার্কেটের চেয়ে এখানে কেনাকাটা করতে ঝামেলা কম হয়। এখানে ভিড় আছে কিন্তু বিশৃঙ্খলা নেই। পাশাপাশি এখানে ছোটদের জন্য টেডি, টমসহ খেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তাই মার্কেট ও শপিংমলের চেয়ে নারী উদ্যোক্তা মেলায় কেনাকাটা করতে বেশি পছন্দ করি।
সিমালিসা পেইজ থেকে অনলাইনে পাকিস্তানি সালোয়ার কামিজ ডিজাইনার পোশাক বিক্রি করেন দুই বান্ধবী সীমা ও লিসা। তাদেরও একটি স্টল আছে এই মেলায়। মেলায় বিক্রি ভাল হচ্ছে জানিয়ে তাঁরা বলেন, এই ধরণের মেলা আমাদের মত নারী উদ্যোক্তা ও অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই মেলাগুলোতে আমরা আমাদের পেইজের বা অনলাইন ব্যবসায়ের অথেন্টিকিজম দেখাতে পারি। প্রথম দিন থেকেই আমাদের সেইল ভাল হচ্ছে। এবার মিড রেঞ্জের ক্রেতা বেশি।
চলমান নারী উদ্যোক্তা মেলার আয়োজক নাজিয়া চৌধুরী বলেন, প্রতি বছরই দুই ঈদের আগে আমরা এ ধরনের মেলা আয়োজন করি। আগে দুই একজন আয়োজক নারী উদ্যোক্তাদের নিয়া মেলা আয়োজন করতেন। এখন ঈদকে সামনে রেখে আরও অনেকেই মেলা আয়োজন করছেন। এই মেলাগুলো নারী উদ্যোক্তাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মেলায় পোশাক, জুয়েলারি, কসমেটিকসসহ নানা পণ্যের ৩৫টি স্টল আছে। হলের নিচতলায় খাবারের জন্য ১২টি রেস্টুরেন্ট আছে। আমাদের বিগত প্রতিটি মেলাতে ৫০ হাজারের অধিক মানুষ ভিজিট করেছেন। এবার আমরা আশাবাদী অধিক মানুষ আমাদের মেলায় আসবেন ও নিজেদের চাহিদামত পণ্য কিনে নিয়ে যাবেন। আমরা ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের সুবিধার কথা চিন্তা করে মেলা আয়োজন করি।
আপনার মন্তব্য