নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ এপ্রিল, ২০২৩ ২১:৫৭

অব্যাহতি নয়, লিটনকে বহিস্কারের দাবি লিথিসির

নারী নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী লিটনকে সকল সংগঠন থেকে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছে লিটল থিয়েটার, সিলেট (লিথিসি)।

সোমবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এমন দাবি জানানো হয়।

লিথিসির বিবৃতিতে বলা হয়-
১৯৮০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শিশুদের নাট্য প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে জন্ম নেয় লিটল থিয়েটার। সেই সময়ে লিটল থিয়েটারই ছিল সিলেট জেলার একমাত্র শিশু-কিশোর গ্রুপ থিয়েটার।

শুরুর দিকে থিয়েটারের সদস্য সংখ্যা ছিল ৩০ জন। বর্তমানে দেশে-বিদেশে মিলিয়ে সেই সংখ্যা অগণিত! সেই দিন থেকে আজ অবধি লিটল থিয়েটার সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে আস্থা এবং নির্ভরতার জায়গা, ভালোবাসার জায়গা।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সকল প্রকার আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখা লিটল থিয়েটার কখনোই কোনপ্রকার অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়নকে প্রশ্রয় দেয়নি, আগামীতেও দিবে না বলেই আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস রেখেই লিটল থিয়েটার সবসময় গণমানুষের পক্ষে আন্দোলন করেছে নাটকের ভাষায়। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যেমন রাজপথে থেকে আন্দোলন করেছে তেমনই নাটকের মাধ্যমে মঞ্চে তুলেছে ঝড়।

কালের বিবর্তনে সিলেট শহরে পাল্টেছে অনেককিছু। পরিবর্তন এসেছে সংস্কৃতি অঙ্গণে, পাল্টেছে নাট্য আন্দোলনের ভাষাও। কিন্তু লিটল থিয়েটার আজও তার স্বকীয়তা হারায়নি। নিজেদের অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়নি একচুলও।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে একটা চিহ্নিত গোষ্ঠী যখন মানুষকে সংস্কৃতিবিমুখ করতে চাচ্ছে, আমাদের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে কলুষিত করতে চাচ্ছে, বাধাগ্রস্থ করতে চাচ্ছে আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে, ঠিক তখনই বিভিষণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন আমাদেরই এক সংস্কৃতিজন। নিজের অপকর্মের দায়ে কলুষিত করে তুললেন আমাদের গোটা সংস্কৃতি অঙ্গণকে। রচনা করলেন এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের। যে কলঙ্ক অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে লেগেছে আমাদের গায়েও।

বাংলাদেশ বেতার, সিলেট-এর নিয়মিত শিল্পী, সিলেট সাংস্কৃতিক জোট-এর সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি, কথাকলি সিলেট-এর সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম লিটন'র বিরুদ্ধে অতি সম্প্রতি ফেইসবুকের একটি পোস্টের মাধ্যমে তারই সংগঠনের একজন কর্মী একটি গুরুতর অভিযোগ আনেন। এরপর আরো অনেকেই তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ধরেন। অবশেষে সেই অভিযোগগুলো আরো পোক্ত হয় তার দুটি অডিও ক্লিপের মাধ্যমে। ফেইসবুকে উত্থাপিত সেইসব অভিযোগ এবং অডিও ক্লিপ দুটিতে ভয়ঙ্কর যেসব সত্য উঠে এসেছে তাতে করে নাট্য সংগঠন হিসেবে সঙ্গত কারণেই আমরা বেশ উদ্বিগ্ন।

এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা লিটল থিয়েটার পরিবার স্পষ্ট এবং দৃঢ় কণ্ঠে বলে দিতে চাই, আমরা কোনপ্রকার নির্যাতক, নিপীড়কের পক্ষে নই। আমরা সকল ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে। সেই সাথে ঘোষণা করছি যে, আমাদের কোন কর্মকাণ্ডে আমিনুল ইসলাম লিটনকে কখনোই সম্পৃক্ত করবো না।

সেই সাথে সাংস্কৃতিক অঙ্গণের সকলের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারাও তাকে আপনাদের সকল কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখুন। অব্যাহতি নয় বহিস্কার করুন। পুরষ্কৃত নয় তিরষ্কৃত করুন। যেন আগামীতে আর কেউই এমন ঘৃণ্যতম অপকর্ম করার দু:সাহস না দেখাতে পারে।

আসুন সকলে মিলে সাংস্কৃতিক অঙ্গণকে কলুষতামুক্ত করি। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে দিয়ে যাই যেন তারা নির্ভয়ে, নির্দ্বিধায় এই অঙ্গণে বিচরণ করতে পারে। কারণ লিটল থিয়েটার বিশ্বাস করে, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসেই সুস্থ সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে।

সেই সাথে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ সকল নেতৃত্বদানকারী সংগঠনের কাছে উদাত্ত আহবান জানাই, আপনারা উক্ত ঘটনার একটি সুষ্ঠু সমাধান করুন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত